‘প্রতিবার ভালোবাসা দিবসের নাটক নিয়ে আলাদা উন্মাদনা দেখা যায়। গত তিন-চার বছরে টেলিভিশন ও ইউটিউব মিলিয়ে প্রতিটি ভালোবাসা দিবসে গড়ে শতাধিক নাটক প্রচারিত হয়েছে। তবে এবার তেমনটা চোখে পড়ছে না। এ বছর নাটকের সংখ্যা বড়জোড় ২৫ থেকে ৩০। আমি নিজেও কোনো প্রোডাকশন (নাটক) করছি না।’ গত সোমবার মুক্তকণ্ঠকে বললেন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শহরের অলিগলি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানে এখন ভোট নিয়ে আলোচনা। এর মধ্যে ভালোবাসা দিবসের নাটক নিয়ে উৎসবের চেনা আমেজটা ফিকে হয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নাটকের তুলনায় নির্বাচন–সংক্রান্ত খবরে দর্শকের আগ্রহ বেশি, ফলে পৃষ্ঠপোষকেরাও নির্বাচনী বুলেটিনে অর্থ লগ্নি করছেন।
ভোটের খবর
ভালোবাসা দিবসের এক দিন আগে নির্বাচন। স্বভাবতই নির্বাচনের খবরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকার টেলিভিশন স্টেশনগুলো। ফলে নাটক নিয়ে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।
নাটক প্রচারের জন্য এনটিভি, চ্যানেল আই, আরটিভি, এটিএন বাংলা, বাংলাভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশনের মতো চ্যানেলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
গত বছর ভালোবাসা দিবসে তিনটি নাটক প্রচার করেছিল এনটিভি। কিন্তু এবার তারা জানিয়েছে, ভালোবাসা দিবসে কোনো নাটক প্রচার করছে না এনটিভি। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা সোমবার মুক্তকণ্ঠকে জানান, ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি কোনো নাটক কিংবা সিনেমা দেখানো হবে না। নাটক ও সিনেমার নির্ধারিত সূচিতে নির্বাচনী বুলেটিন প্রচার করা হবে।
আরটিভি তিনটি নাটক প্রচার করবে; এর মধ্যে দুটি নাটক পুরোনো। চ্যানেল আই ও মাছরাঙা টেলিভিশন ভালোবাসা দিবসে একটি করে নাটক প্রচার করবে। বাংলাভিশন গত বছর তিনটি নাটক প্রচার করেছিল। তবে ভোটের ডামাডোলের মধ্যে এবার কোনো নাটক প্রচার করবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাভিশনের অনুষ্ঠানপ্রধান তারেক আখন্দ গতকাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এবার ভালোবাসা দিবসের পরদিন নির্বাচন। ভোটের সংবাদ, সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকের আলাদা আগ্রহ থাকবে।’
গতকাল থেকেই নাটকসহ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছে বাংলাভিশন, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরোদমে ভোটের খবর প্রচার করবে তারা।
ইউটিউবেও কম
কয়েক বছর ধরে টেলিভিশনের বাইরে ইউটিউব চ্যানেলগুলোও নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছে। এর মধ্যে ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট, সিএমভি, ক্যাপিটাল ড্রামা, রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্ট, সিনেমাওয়ালাসহ বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল নাটক নির্মাণ করে।
গত ভালোবাসা দিবসে অন্তত আটটি নাটক মুক্তি দিয়েছিল সিএমভি। এবার মাত্র একটি নাটক মুক্তি দিচ্ছে তারা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এস কে সাহেদ আলী গতকাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নাটকের চেয়ে নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী। মানুষ নাটক কম দেখবে, নির্বাচন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে। নির্বাচনের পরপরই রমজান শুরু হবে। ফলে ভালোবাসা দিবসের নাটক নিয়ে খুব একটা পরিকল্পনা করা হয়নি।’
রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্ট ও ক্যাপিটাল ড্রামাতেও একটি করে নাটক আসবে।
নাটকে কারা
ভালোবাসা দিবসে ভিপি নামে একটি নাটকে কেয়া পায়েল-মুশফিক ফারহানকে দেখা যাবে। এক ছাত্রসংগঠনকে কেন্দ্র করে নাটকটি নির্মাণ করেছেন তৌফিকুল ইসলাম। এটি ক্যাপিটাল ড্রামাতে মুক্তি পাবে।
গত বছর ভালোবাসা দিবসে নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিনের মন দুয়ারী নাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন নাজনীন নীহা। এবারও ভালোবাসা দিবসে একই নির্মাতার যে কথা হয়নি বলা নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি, তাঁর বিপরীতে আছেন জোভান। নীহা গতকাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এবার ভালোবাসা দিবসে আমার একটি নাটকই মুক্তি পাবে। এটি সিএমভিতে আসবে।’
ভালোবাসা দিবসে অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদারকে চারটি কাজে দেখা যাবে। এর মধ্যে চরকিতে এসেছে টিফিন বক্স; মাছরাঙা টেলিভিশনে বৃষ্টির ঘ্রাণ, রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টে লাইফ ইজ বিউটিফুল ও একটি ইউটিউব চ্যানেলে মিস্ট্রি ইন ব্লুম মুক্তি পাবে। এসব নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্যে প্রান্তর দস্তিদারের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা, চমক, বহ্নি হাসান।
১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচারিত হবে যৌতুকের জ্বালা। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত ও লামিমা লাম।এর বাইরে বসন্ত এসে গেছেসহ বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিংয়ের খবর মিলেছে।
শুটিংও বন্ধ
নির্বাচনের মধ্যে গাজীপুর মহানগর এলাকার সব শুটিং স্পট ও রিসোর্ট চার দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। গত বৃহস্পতিবার মোহা. ইসরাইল হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুলিশ আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত সব শুটিং স্পট, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে।
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আড়াই শতাধিক রিসোর্ট, শুটিং স্পট ও পিকনিক স্পট রয়েছে।
তবে ভালোবাসা দিবসে নাটক কম হলেও ঈদুল ফিতরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রযোজক, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীরা। সাজু মুনতাসির বলছেন, ‘নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে নাটকে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়বে। নাটকে যে ভাটা তৈরি হয়েছে, কেটে যাবে।’