বছরের প্রথম ছয় মাসেই নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখার হিসাব বেশ জমে উঠেছে। অ্যাকশন থেকে রোমান্স, গ্যাংস্টার ড্রামা থেকে অ্যানিমেশন—দর্শকদের পছন্দের তালিকায় আছে নানা ঘরানার সিনেমা। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমাগুলোর তালিকায় একটি চমকও আছে—এখানে জায়গা করে নিয়েছে ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া একটি সিনেমা!

নেটফ্লিক্সের ‘হোয়াট উই ওয়াচড’ প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে মোট ৯৭ বিলিয়ন ঘণ্টার কনটেন্ট দেখা হয়েছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমার তালিকা দেখে নেওয়া যাক—

১০. ‘অফিস রোমান্স’
জেনিফার লোপেজ ও ব্রেট গোল্ডস্টেইন অভিনীত এই রোমান্টিক কমেডির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন সফল এয়ারলাইন প্রধান নির্বাহী ও নতুন নিয়োগ পাওয়া এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনজীবীকে ঘিরে। জ্যাকি ক্রুজ একজন পারফেকশনিস্ট সিইও। অন্যদিকে ড্যানিয়েল ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কর্মক্ষেত্রে দুজনের দেখা হওয়ার পর তৈরি হয় আকর্ষণ। প্রথমে সেই আকর্ষণ অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। এরপর সেই প্রেমই তৈরি করে নানা জটিলতা।

সাধারণত কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে নির্মিত গল্পে ক্ষমতাবান পুরুষ ও অধস্তন নারী কর্মীর সম্পর্ক দেখানো হয়। অফিস রোমান্স সেই চেনা সমীকরণ উল্টে দিয়েছে। এখানে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন নারী। আর সম্পর্কের ঝুঁকিও শেষ পর্যন্ত তাঁকেই বেশি বহন করতে হয়। ড্যানিয়েল চাইলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন না। কারণ, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে জ্যাকির জন্য সম্পর্কটি শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি তাঁর নেতৃত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে যায়। ছবিটি সূক্ষ্মভাবে দেখায়, কর্মক্ষেত্রে প্রেমের ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রশ্নটি কতটা জটিল। রোমান্টিক কমেডি ঘরানার সিনেমা গত কয়েক বছরে কিছুটা মন্দার মধ্য দিয়ে গেলেও ‘অফিস রোমান্স’ সেই পুরোনো ‘রম-কম’ আবহ ফিরিয়ে এনেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন বেটি গিলপিন, অ্যামি সেডারিস, টনি হেল ও ব্র্যাডলি হুইটফোর্ড। জেনিফার লোপেজের ‘সেলেনা’ সিনেমার সহশিল্পী এডওয়ার্ড জেমস অলমসের সঙ্গেও আবার পর্দায় দেখা গেছে তাঁকে। এবারও তাঁরা বাবা-মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ৫ কোটি ৮৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘অফিস রোমান্স’ নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে।

.

৯. ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’
বার্মিংহামের আলোচিত গ্যাংস্টার পরিবার শেলবিরা আবারও ফিরেছে। ছয় মৌসুমের সিরিজ শেষ হওয়ার চার বছর পর বড় পর্দায় এসেছে ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’। কিলিয়ান মার্ফি আবারও টমি শেলবি চরিত্রে। তবে এবার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র টমির বিচ্ছিন্ন ছেলে ডিউক শেলবি। বাবার কাছ থেকে দূরে থাকা এই তরুণ এরই মধ্যে শেলবি পরিবারের নেতৃত্বে উঠে এসেছে। কিন্তু নেতৃত্বের সঙ্গে আসে বড় ঝুঁকিও। একটি নাৎসি ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে ডিউক, আর সেই ষড়যন্ত্র ক্রমেই হুমকি হয়ে ওঠে পুরো শেলবি পরিবারের জন্য।

বহুদিন ধরে নিজের অতীত ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা টমি শেষ পর্যন্ত নির্বাসন ভেঙে ফিরে আসে। পুরোনো শত্রু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং নতুন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—সবকিছুর মধ্যে আবারও তাকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করার লড়াইয়ে নামতে হয়।

টমি ও ডিউকের সম্পর্কও সিনেমাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একদিকে বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি, অন্যদিকে পরিবারের নেতৃত্বে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা—দুই প্রজন্মের শেলবির মধ্যে তৈরি হয় নতুন টানাপোড়েন।
সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন রেবেকা ফার্গুসন, টিম রথ ও স্টিফেন গ্রাহাম। ৬ কোটি ৩৯ লাখ ভিউ নিয়ে ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’ তালিকার নবম স্থানে রয়েছে।

.

৮. ‘দ্য ক্র্যাশ’
২০২২ সালের ৩১ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর স্ট্রংসভিল শহরে ঘটে ভয়াবহ এক গাড়ি দুর্ঘটনা। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল গতিতে চলা একটি গাড়ি একটি ইটের ভবনে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির তিন আরোহীর মধ্যে দুজন নিহত হন।

শুরুতে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে অন্য এক চিত্র। দুর্ঘটনার আড়ালে পরিকল্পিত অপরাধের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া চালক, তাঁর প্রেমিক ও তাঁদের বন্ধুর জটিল সম্পর্কের ভেতর দিয়ে এগিয়েছে এই ট্রু-ক্রাইম তথ্যচিত্রটি। দুর্ঘটনাটি আসলেই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো গল্প, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে সিনেমাটি। ৬ কোটি ৫২ লাখ ভিউ নিয়ে ‘দ্য ক্র্যাশ’ নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় অষ্টম স্থানে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিনেমা ও সিরিজের বাইরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত তথ্যচিত্র। ‘দ্য ক্র্যাশ’-এর জনপ্রিয়তা সেটারই প্রমাণ।

.

৭. ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’
বন্ধুত্ব কি একসময় প্রেমে পরিণত হতে পারে? এ প্রশ্নই সামনে রেখে এগিয়েছে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’।

এমিলি বেডার ও টম ব্লাইথ অভিনীত সিনেমাটিতে পপি ও অ্যালেক্স দীর্ঘদিনের বন্ধু। প্রায় এক দশক ধরে প্রতি গ্রীষ্মে তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণে বের হন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। এবার কি বন্ধুত্বের সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়াবে?

এমিলি হেনরির জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সারাহ ক্যাথরিন হুক, জামিলা জামিল, লুসিয়েন লাভিসকাউন্ট ও লুকাস গেজ।

সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি দুই প্রধান অভিনেতা। পপি চরিত্রে এমিলি বেডার এবং অ্যালেক্সের ভূমিকায় টম ব্লাইথকে দেখা যায়। নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, লেখক এমিলি হেনরি তাঁদের রসায়ন পরীক্ষার ভিডিও একাধিকবার দেখেছিলেন এবং প্রতিবারই তাঁদের জুটি তাঁর ভালো লেগেছিল। পরিচালক ব্রেট হ্যালিও তাঁদের রসায়নকে সিনেমাটির প্রাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

.

পপি চরিত্রে বেডারকে প্রাণবন্ত ও অগোছালো এক তরুণীর চরিত্রে দেখা যায়। অন্যদিকে ব্লাইথের অ্যালেক্স অনেক শান্ত, সংযত ও হিসাবি। এই বিপরীত স্বভাবই তাঁদের দৃশ্যগুলোকে প্রাণবন্ত করেছে। তাঁদের সম্পর্কের মজাটা তৈরি হয় কথোপকথন, ঠাট্টা, অভিমান আর ছোট ছোট মুহূর্তে। ফলে দর্শকের কাছে তাঁদের প্রেমে পড়ার যাত্রাটি হঠাৎ মনে হয় না; বরং ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে মনে হয়। মুক্তির পর সিনেমাটি নেটফ্লিক্সে ভালো সাড়া পায়। প্রথম সপ্তাহেই এটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের তালিকায় ১ নম্বরে ওঠে এবং ১ কোটি ৭২ লাখ ভিউ পায়। এরপরও দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকে। নেটফ্লিক্সের হিসাবে, মুক্তির পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে সিনেমাটি ৪ কোটি ৫ লাখ ভিউ অর্জন করে এবং বিশ্বজুড়ে ইংরেজি সিনেমার তালিকায় ১ নম্বরে ছিল। বর্তমানে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ভিউ নিয়ে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ জায়গা করে নিয়েছে তালিকার সপ্তম স্থানে।

৬. ‘থ্র্যাশ’
একটি হারিকেন আঘাত হানে উপকূলীয় একটি শহরে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় শহরের স্বাভাবিক জীবন। ঝড়ের তাণ্ডবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, বাইরে থেকে উদ্ধারকারী দলও সেখানে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ধ্বংসস্তূপ আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিজেদের বাঁচানোর দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হয় বাসিন্দাদের।

কিন্তু ঝড় থামার পরও বিপদ কাটে না। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে শহরে ঢুকে পড়ে একদল হিংস্র ও ক্ষুধার্ত হাঙর। একদিকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর, অন্যদিকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়া হাঙরের আতঙ্ক—বেঁচে থাকার লড়াই আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

.

ফোবি ডাইনেভর, ডিজিমন হাউন্সু ও হুইটনি পিক অভিনীত এই সারভাইভাল থ্রিলারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী শিকারির ভয়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ‘ডোন্ট লুক আপ’-এর অ্যাডাম ম্যাকে ও কেভিন মেসিক। ‘থ্র্যাশ’-এর বিশেষত্ব শুধু হাঙরের আক্রমণে নয়। সিনেমাটি এমন কয়েকজন মানুষকে একই দুর্যোগের মধ্যে আটকে দেয়, যাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও ভয় রয়েছে।

ডাকোটা নিজের মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন, লিসা মাতৃত্বের কঠিন পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন। আবার অন্য একটি পরিবারও বন্যার পানিতে আটকা পড়ে যায়। তিন ভাই–বোনকে নিয়ে বিপদের মধ্যে পড়ে যায় তাঁদের পালক বাবা বিলি ও তাঁর পরিবার।

ফলে গল্পে একাধিক বেঁচে থাকার লড়াই পাশাপাশি চলে। কে কোথায় আটকা পড়েছে, কে কার কাছে পৌঁছাতে পারবে—এসব প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় পানির নিচে ঘুরে বেড়ানো হাঙরের আতঙ্ক।

১০ কোটি ভিউ পেরিয়ে ‘থ্র্যাশ’ এখন পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমাগুলোর একটি।

.
অ্যাকশন-থ্রিলারের দাপট
নেটফ্লিক্সের প্রথম ছয় মাসের হিসাব বলছে, ২০২৬ সালে দর্শকদের পছন্দের তালিকায় অ্যাকশন ও থ্রিলারের দাপটই বেশি। তবে অ্যানিমেশন ও রোমান্টিক সিনেমাও জায়গা করে নিয়েছে সেরা দশে। ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ভিউ নিয়ে তালিকার শীর্ষে ‘ওয়ার মেশিন’। অন্যদিকে ৫ কোটি ৮৪ লাখ ভিউ নিয়ে ১০ নম্বরে আছে ‘অফিস রোমান্স’। অর্থাৎ বছরের প্রথমার্ধে নেটফ্লিক্স দর্শকদের পছন্দে ছিল অ্যাকশন, অপরাধ, রোমান্স, ভয় আর অ্যানিমেশনের বৈচিত্র্যময় মিশেল।
.

৫. ‘অ্যাপেক্স’
শার্লিজ থেরন অভিনীত ‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প শুরু হয় একজন একাকী নারী শাশাকে কেন্দ্র করে। শোকাহত এই নারী মানসিক শান্তির খোঁজে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশে যান। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় বেনের।

কিন্তু বেন আর দশজনের মতো নন। তিনি একজন নির্মম সাইকোপ্যাথ। শাশাকে তিনি জড়িয়ে ফেলেন এক ভয়ংকর ‘ইঁদুর–বিড়াল’ খেলায়। বেন তাঁকে পালানোর সুযোগ দেন। শর্ত, তাঁর পাম্পআপ মিউজিক শেষ হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব দূরে চলে যেতে হবে শাশাকে।

.

এরপর শুরু হয় শিকারি ও শিকারের প্রাণঘাতী লড়াই। বেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যারন এগারটন। তবে সিনেমাটিতে কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন ভালোভাবেই ধরে রাখতে পেরেছেন নির্মাতা। এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব। সাশা চরিত্রে শার্লিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন; বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাই যখনই তিনি পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। গল্প চিরচেনা হলেও রোমাঞ্চ তৈরিতে নির্মাতার দক্ষতার কারণেই এটি বিশ্বব্যাপী এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১২ কোটি ৯০ লাখ ভিউ নিয়ে ‘অ্যাপেক্স’ জায়গা করে নিয়েছে তালিকার শীর্ষ পাঁচে।

.১০ দিনে ৮ কোটি ভিউ! চমকে দিল ‘অ্যাপেক্স’.

৪. ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’
২০২৬ সালের তালিকায় ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া একমাত্র সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’। কে-পপ আর দানব—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগৎকে এক গল্পে মিলিয়েছে অ্যানিমেটেড মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’। মিরা, জোয়ি ও রুমি জনপ্রিয় কে-পপ গার্ল গ্রুপ ‘হান্ট্রিক্স’-এর সদস্য। মঞ্চে গান গাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আরেকটি পরিচয় আছে—তাঁরা দানব শিকার করেন। তাঁদের সামনে এবার হাজির হয় ‘সাযা বয়েজ’ নামে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বয় ব্যান্ড। সমস্যাটা হলো, এই বয় ব্যান্ডের সদস্যরা আসলে দানব।
কে-পপের জনপ্রিয় শিল্পীদের লেখা গান এবং জমজমাট অ্যানিমেশনের কারণে সিনেমাটি দ্রুত দর্শকদের মন জয় করে।

.

রেকর্ডের দিক থেকেও সিনেমাটির সাফল্য উল্লেখ করার মতো। মুক্তির এক বছর পরও ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’ নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টপ ১০-এ টানা ৫২ সপ্তাহ অবস্থান করেছে। নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে এটিই কোনো সিনেমার টানা টপ টেনে থাকার নতুন রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ টানা ২০ সপ্তাহের রেকর্ড ছিল ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যাটর্নি উ’ সিনেমাটির। সিনেমাটি ৯৩টি দেশের প্রতিটিতেই শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এবং ৭৬টি দেশে ছিল ১ নম্বরে। ১৩ কোটি ৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’ তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

৩. ‘সোয়াপড’
অ্যানিমেটেড সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রে ছোট্ট বনজ প্রাণী অলি ও রাজকীয় পাখি আইভি। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়; বরং তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত একটি জাদুকরি পড স্পর্শ করার পরই ঘটে বিপত্তি—দুজনের প্রজাতি পরস্পরের সঙ্গে বদলে যায়।

একমুহূর্তে নিজের পরিচিত জীবন থেকে ছিটকে পড়ে অলি ও আইভি। এবার অলি পাখির জীবন আর আইভিকে বনের ছোট্ট প্রাণী হিসেবে চলাফেরা করতে হয়। শুরুতে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে, একে অপরের জীবনকে কাছ থেকে না দেখলে এ জটিলতা থেকে বের হওয়ার উপায় নেই।
নিজেদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথ খুঁজতে গিয়ে তারা জড়িয়ে পড়ে আরও বড় এক অভিযানে। যে বনভূমিকে তারা নিজেদের ঘর বলে জানে, সেটিকে রক্ষা করাও হয়ে ওঠে তাদের দায়িত্ব। আর সেই যাত্রায় এত দিনের শত্রুতার জায়গা নিতে শুরু করে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া।

অলির কণ্ঠ দিয়েছেন মাইকেল বি জর্ডান এবং আইভির কণ্ঠ দিয়েছেন জুনো টেম্পল। ১৩ কোটি ৮ লাখ ভিউ নিয়ে ‘সোয়াপড’ এখন পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

.১৪ কোটির বেশি ভিউ! এ সিনেমা নিয়ে কেন এত মাতামাতি.

২. ‘দ্য রিপ’
ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেককে এ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে দেখা যায়। ‘দ্য রিপ’-এ তাঁদের দেখা যাবে মায়ামির ট্যাকটিক্যাল নারকোটিকস টিমের দুই কর্মকর্তার চরিত্রে। একটি অভিযানে একটি নিরাপদ বাড়িতে ঢুকে তাঁরা হদিস পান ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। কিন্তু টাকা পেলেই যে কাজ শেষ, তা নয়। আইন অনুযায়ী, পুরো অর্থ গুনে হিসাব না করা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই থাকতে হবে তাঁদের।

শুরুতে বিষয়টি সহজই মনে হয়। কিন্তু এত বিপুল অর্থ এক জায়গায় থাকলে খবর গোপন থাকে না। ধীরে ধীরে বাইরের লোকজন জানতে পারে টাকার কথা। এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। নিজেদের হেফাজতে থাকা অর্থ রক্ষা করতে গিয়ে রাতভর লড়াই করতে হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। তবে বিপদ শুধু বাইরে থেকে আসে না। চাপ যত বাড়তে থাকে, দলের সদস্যদের মধ্যেও তৈরি হয় সন্দেহ ও অবিশ্বাস—এ টানাপোড়েনই সিনেমাটির উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

.

ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেকের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন কাইল চ্যান্ডলার, স্টিভেন ইয়ুন ও টেয়ানা টেলর। উচ্চ ঝুঁকির এই ক্রাইম থ্রিলারে এক রাতের ঘটনাই পরিণত হয় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে। ‘দ্য রিপ’ গুরুগম্ভীর সিনেমা নয়, স্রেফ বিনোদনের জন্য নির্মিত একটি অ্যাকশন সিনেমা। যাঁরা নব্বইয়ের দশকের দুর্ধর্ষ পুলিশের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে এটি দারুণ উপভোগ্য হবে। বন্ধুত্ব, লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার এ রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে বসে দর্শক হতাশ হবেন না। ১৩ কোটি ৬১ লাখ ভিউ নিয়ে ‘দ্য রিপ’ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

.২৩ কোটি ৬০ লাখ ভিউ! কী আছে এই সিনেমায়.

১. ‘ওয়ার মেশিন’
বহু বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা একটি স্বপ্ন পূরণ করতেই কঠিন এক সামরিক প্রশিক্ষণে নামেন এক কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের সেই যাত্রাই একসময় পরিণত হয় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে। অ্যালান রিচসন অভিনীত ‘ওয়ার মেশিন’-এ একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ইউএস আর্মি রেঞ্জার বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন। বহু বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই শুরু হয় তাঁর কঠিন প্রশিক্ষণ।

কিন্তু প্রশিক্ষণের শেষ ধাপে গিয়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। কঠোর সামরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রার্থীদের এবার লড়তে হয় একটি বিশাল ও রহস্যময় হত্যাযন্ত্রের বিরুদ্ধে। নিজেদের বাঁচাতে সেই যন্ত্রের নজর এড়িয়ে চলাই হয়ে ওঠে তাঁদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিনেমাটিতে অ্যালান রিচসনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ডেনিস কুয়েড, স্টিফেন জেমস, জাই কোর্টনি ও এসাই মোরালেস।

.

‘ওয়ার মেশিন’ কেবল একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়। এর ভেতরে আছে ভ্রাতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও মানসিক শক্তির গল্প। রিচসনের ভাষায়, এমন এক চরিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা, যে ভেঙে পড়ার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়েও টিকে থাকে। কারণ, বাস্তব জীবনেও প্রতিদিন এমন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায় মানুষ।

মুক্তির মাত্র তিন দিনে ছবিটির ভিউ হয় প্রায় ৩৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন, তিন সপ্তাহ ধরেই নেটফ্লিক্সের শীর্ষ দশের তালিকার এক থেকে তিনের মধ্যে ছিল ‘ওয়ার মেশিন’। ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ভিউ নিয়ে ‘ওয়ার মেশিন’ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমা। সিনেমাটির ভক্তদের জন্য আরও একটি সুখবর—এর সিক্যুয়েলও আসছে।

নেটফ্লিক্স ডটকম ও আইএমডিবি অবলম্বনে