দুই বছর আগের কথা। সেই সময় আলোচিত জুটি ছিলেন খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান। অল্প সময়েই দুজনের অভিনীত নাটক আলোচনায় আসে। অভিনয়ের বাইরেও তাঁদের একসঙ্গে ঘুরতে দেখা যেত। এ নিয়ে শুরু হতো গুঞ্জন। একসময় শোনা যায় তাঁরা প্রেম করছেন। এ খবর এই জুটির কাছেও পৌঁছেছে। এ নিয়ে দুই বছর আগে মুক্তকণ্ঠের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দুই তারকা। কী বলেছিলেন তাঁরা? কেন প্রেম গোপন করেছিলেন?
দুই বছর আগে এই দুই অভিনয়শিল্পীর ঈদের নাটক ‘সুখ অসুখ’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘বৃষ্টির অপেক্ষায়’, ‘প্রিয় লাইলী’ ও ‘সাদা পায়রা’ বেশ প্রশংসিত হয়। ঈদের পরেও একসঙ্গে টানা কাজ করেছেন—যা তাঁদের নিয়ে গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দেয়।
এসব ঘটনা নিয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খায়রুল বাসার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এটা আমিও শুনেছি। বাইরে থেকে অনেকেই অনেক কথা বলেন। এটা আমি এনজয় করি। থ্রিলিং মনে হয়। একসঙ্গে বেশি কাজ হলেই কি প্রেম হয়?
.এমন গুঞ্জন নতুন নয়। আমরা একসঙ্গে বেশি কাজ করি। এর কারণ আমাদের সময় মিলে যাচ্ছে, আবার আমরা সময় মিলিয়ে নিচ্ছি। আবার প্রযোজকেরা দেখছেন আমাদের একসঙ্গে অভিনীত কাজগুলো দর্শক পছন্দ করছেন। তখন অন্যরাও আমাদের একসঙ্গে কাস্টিং করছেন। গল্প পছন্দ হচ্ছে। দুজনেই ওকে বলছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বোঝাপড়া চমৎকার হয়েছে। যার ফলে বেশি কাজ হচ্ছে, এই যা। কিন্তু এটা প্রেম বা সম্পর্ক এমন কিছু নয়।’
এই গুঞ্জন নিয়ে সাদিয়া আয়মানকেও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে হয়। তারকাদের প্রেম-ভালোবাসা বিয়ের নানা গুঞ্জন নিয়ে তিনিও কথা বলেছেন। গত বছর সাদিয়া আয়মান জানান, তিনি এগুলো বেশ উপভোগ করেন। সহশিল্পীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে সাদিয়া সেই সময় বলেছিলেন, ‘একসঙ্গে অভিনয় করলেন গুঞ্জন থাকবেই। আমরা ভালো সহকর্মী। যেমন ‘উৎসব’ সিনেমার পরে অনেকেই মনে করেছিল আমরা বিয়ে করেছি। কারা গুজব ছড়ায় জানি না। গুঞ্জনকে আমি তেমন গুরুত্ব দিই না। এটা সব অভিনয়শিল্পীকে নিয়েই কমবেশি রয়েছে।’
এ ঘটনার পরে ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায়, খায়রুল বাসার একসময় সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরে তাঁদের সে সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু সম্পর্কের কথা সত্য ছিল। শুধু তাঁরাই নন। ঢালিউড, টেলিভিশন নাটক ও সংগীতাঙ্গনের আরও অনেক তারকা প্রেমের সম্পর্ককে শুরুর দিকে লুকিয়েছিলেন, যা পরে সত্য হয়। সেসব সম্পর্কে কোনোটি এখনো টিকে থাকলেও অনেক সম্পর্কই বিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে।
.শাকিব-অপু-বুবলী
দীর্ঘদিন ধরেই শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের প্রেমের গুঞ্জন ছিল। কিন্তু কেউ কখনোই প্রকাশ্যে জানাননি। কিন্তু ঠিকই একসময় সন্তানসহ বিয়ের খবর দেন অপু বিশ্বাস। পরে সেই বিয়ে ভেঙেও যায়। অন্যদিকে ২০১৫ সালে ‘বসগিরি’ ছবিতে প্রথম জুটি বেঁধে অভিনয় করার পর থেকেই শাকিব-বুবলীকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন ওঠে। এরপর একসময় শাকিব ও তাঁর স্ত্রী অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ হয়ে গেলে সেই গুঞ্জন আরও দানা বাঁধে। এ ব্যাপারে বুবলী প্রেম নিয়ে মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই যে পর্দার সফল জুটি নিয়ে এ ধরনের গুঞ্জন ওঠেনি। আমরা তো এর বাইরে নই। তাই আমাদের নিয়েও কথা হচ্ছে। হয়তো আগামী দিনে যাঁরা পর্দায় জুটি গড়বেন, তাঁদের বেলাতেও এমন কথা উঠবে।’
মেহজাবীন-রাজীব
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরিচালক আদনান আল রাজীব প্রেম করছেন—সাত বছর ধরে বিনোদন অঙ্গনে এ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও প্রকাশ্যে কখনো মুখ খোলেননি তাঁরা। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্তিগত জীবনের এ প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যেতেন তাঁরা। অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা বিয়ে করেন। সেই সময় মেহজাবীন বলেছিলেন, ‘তাঁরা সম্পর্কে কথা আগে থেকেই কাউকে বলতে চাননি।’
নীহার প্রেম
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পোস্ট ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায় অভিনেত্রী নাজনীন নীহার। কিন্তু এই প্রেম নিয়ে কিছুই প্রকাশ্যে বলেননি। অবশেষে জানা যায় পাকিস্তানের কারও সঙ্গে প্রেম করছেন। সেটাও স্বীকার করেননি। এর মধ্যে তিনি গুঞ্জন হটিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ‘এনগেজড।’ সর্বশেষ নীহা জানান, তিনি প্রেম করছেন। এখন আর একা নন। শিগগির বিয়ের খবরও জানাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেম করছি সত্য। বিয়ের খবরও আমি জানাব। কোনো বিষয় লুকিয়ে রাখব না।’
মৌসুমী-ওমর সানী
ঢালিউডের আলোচিত তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানী। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় মৌসুমীর। শুরুতে শোনা গিয়েছিল, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর সঙ্গে প্রেম রয়েছে। এই নিয়ে কেউ কোনো গুরুত্ব দেননি। পরে সিলেটে একটি শুটিং ঘিরে ওমর সানীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পরে। কিন্তু কেউ এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন তাঁরা। এর মধ্যে হঠাৎ করেই একটি সাক্ষাৎকারে ওমর সানী প্রেমের কথা স্বীকার করেন। অবশেষে শেষ হয় গুঞ্জন। ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট তাঁরা বিয়ে করেন। এই দম্পতির ফারদিন এহসান স্বাধীন (পুত্র) এবং ফাইজা (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছে।
হিল্লোল-নওশীন
অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল সম্পর্কে জড়ান অভিনেত্রী নওশীনের সঙ্গে। একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি। সেই সময় এটাও শোনা যায়, তাঁরা গোপনে বিয়েও করেছেন। তাঁদের প্রেম-বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও তা অস্বীকার করেন। পরে অবশ্য বিয়ের কথা স্বীকার করেন এই দম্পতি। বর্তমানে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।
নাঈম-শাবনাজ
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শাবনাজের। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন নাঈম। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁদের। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেন তাঁরা। পর্দার এই জুটির প্রেমের গুঞ্জনও তখন ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডে। যদিও শুরুতে সম্পর্কের খবরটি স্বীকার করেননি দুজনের কেউই। শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হয়। ১৯৯৬ সালে বিয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ককে পরিণতি দেন নাঈম ও শাবনাজ।
হৃদয় খান-সুজানা
সংগীতশিল্পী হৃদয় খান ও মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফরের প্রেমের খবর ২০১০ সালের দিকে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় আসে। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি তাঁরা। চার বছর পর, ২০১৪ সালে সেই সম্পর্ক বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পায়। তবে দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মতের অমিলের কারণে বিয়ের এক বছরের মাথায়, ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল, বিচ্ছেদ ঘটে হৃদয় খান ও সুজানার।