নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের সমর্থক দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নারী ভোটারদের নানা হুমকি, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে বিশেষ বিশেষ এলাকায় সন্ত্রাসীদের জড়ো করার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট পদের অধিকারী ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিয়ে ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতির পরিকল্পনা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি দলীয় প্রার্থী ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের আমির।

জামায়াতের প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জামায়াতের নারী ভোটারদের বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন হুমকি দিচ্ছে। যার ভিডিও প্রশাসনকে দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, গতকাল সোমবার থেকে বিভিন্ন জায়গায় বোমা ফাটানো হচ্ছে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য, যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে। মুছাপুরসহ কিছু কিছু এলাকায় বিগত সময়ের সন্ত্রাসী জড়ো করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জামায়াতের প্রার্থী বলেন, দলীয় পদ–পদবি উল্লেখ করে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়া ৪৮ জন চিহ্নিত ব্যক্তিকে পরিবর্তন করার জন্য তাঁরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাঁদের একজনকেও পরিবর্তন করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তাঁর কোনো সমর্থকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি রিটার্নিং কিংবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করতে হয়। তখন সেখান থেকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই প্রার্থীকে নোটিশ করা হয়। তিনি যে অভিযোগগুলো করেছেন এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। সবগুলো অভিযোগই মনগড়া। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষেত্রে যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’

বোমা ফাটানো ও সন্ত্রাসী জড়ো করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সব জায়গায় পুলিশের নিয়মিত টহল রয়েছে।