মাত্র ২২ বছর বয়সে টেস্ট দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রায়ান বেনেট। আর প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে গড়লেন ইতিহাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে বিরল এক কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন এই তরুণ।
দেশটির ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এর আগে এই অর্জন ছিল ডেভ হটন, ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের। মজার বিষয়, তাদের মধ্যে দুজনই কীর্তিটি গড়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন বেনেট। আগের দিন ৭১ রানে অপরাজিত থাকা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এদিন আরও ২৯ রান যোগ করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০৬ বলে ১১টি চারে ১২৮ রান করে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫০৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে জিম্বাবুয়ে।
নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা পিঠের চোটে ছিটকে যাওয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন বেনেট। এর আগে দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি। নতুন দায়িত্বে প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্স করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন তরুণ এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৫ উইকেটে ৩২৬ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। প্রথম দিন ১২৮ বলে ৭১ রান করা বেনেট দ্বিতীয় দিনের সকালেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। আফগান বোলারদের শর্ট বলের পরিকল্পনা সামলে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তিন অঙ্কের দিকে।
ইনিংসের ১০৪তম ওভারে জিয়াউর রহমান শরিফির বলে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বেনেট। ১৭৮ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেন তিনি।
এর আগে ১৯৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অভিষেক টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ১২১ রান করেছিলেন ডেভ হটন। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি ছিল জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট। হটনের ব্যাট থেকেই এসেছিল দেশটির প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
এরপর ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অধিনায়কত্বের প্রথম টেস্টে অপরাজিত ১০৫ রান করেন ব্রেন্ডন টেলর। হারারেতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ছয় বছরের বিরতি কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে ১৩০ রানে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।
২০২০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই এই তালিকায় নাম লেখান ক্রেইগ আরভিন। ঢাকার মিরপুরে অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ছয় বছর পর চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বেনেট।
শুধু অধিনায়কত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরিই নয়, বয়সের হিসাবেও অনন্য অর্জন করেছেন জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটার। ২২ বছর ৩৬০ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে দেশটির দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন তিনি।
এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন তাতেন্দা তাইবু। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২১ বছর ২৪৫ দিন বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অধিনায়ক।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগেও নিজের ব্যাটিং প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন বেনেট। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বুলাওয়েতে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই ইনিংসে করেছিলেন ১১০ রান।
এরপর ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহামে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। এবার আবারও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ক্যারিয়ারের শতকের সংখ্যা তিনে উন্নীত করলেন।
এদিকে শারজাহ টেস্টে বেনেটের পাশাপাশি সেঞ্চুরি করেছেন অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরও। প্রথম দিন ১৬৮ বলে ১৪টি চার ও চারটি ছক্কায় ১৩১ রান করেন ৪০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তৃতীয় উইকেটে বেনেটের সঙ্গে তার ১৩৭ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
টেলরের বিদায়ের পর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ৫ উইকেটে ২৮৭ রানে নেমে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে ওয়েসলি মাধেভেরেকে সঙ্গে নিয়ে দলকে আবারও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান বেনেট। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৬ রান। মাধেভেরে ৭০ বলে ৫৪ রান করে ফিরলেও নিজের ইনিংস আরও বড় করেন অধিনায়ক।
এরপর উইকেটরক্ষক তাফাদজাওয়া সিগার সঙ্গেও সপ্তম উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন বেনেট। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ১১৭তম ওভারে কায়েস আহমেদের বলে জিয়াউর রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ততক্ষণে দলের সংগ্রহ পৌঁছে গেছে ৪৩৭ রানে।
বেনেটের বিদায়ের পরও রান তোলা থামায়নি জিম্বাবুয়ে। সিগা ৪৪ রান করেন। দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফেরা গ্রায়েম ক্রেমার অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ ওভার ৩ বলে ৫০৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
আফগানিস্তানের হয়ে কায়েস আহমেদ ১২০ রানে এবং মোহাম্মদ সালিম সাফি ৮২ রানে তিনটি করে উইকেট নেন। জিয়াউর রহমান আকবর শিকার করেন দুটি উইকেট।
জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১১৩ রান। ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ৫৫ ও অভিষিক্ত রহমানউল্লাহ ৫০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৯৯ রান।
আফগানিস্তানের একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন নিউম্যান নিয়ামহুরি। ২ রান করা আবদুল মালিককে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান তিনি। প্রথম ইনিংসে এখনো জিম্বাবুয়ের চেয়ে ৩৯১ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।