আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিষিক্ত হওয়ার পর এবার ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিজেদের যাত্রা শুরু করলেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। ত্রিদেশীয় সিরিজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশের ওয়ানডে একাদশে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। ফাইনালে পৌঁছানোর লড়াইয়ে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাঁদের পরিবর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আলিস আল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল আলিসের। সেই ম্যাচে তিনি চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেছিলেন। সেই অভিষেকের মাত্র ১৮ দিন পর ক্রিকেটের অন্য সংস্করণ অর্থাৎ ওয়ানডেতে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেলেন ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছেন আলিস। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৪টি উইকেট নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৯ ম্যাচে তাঁর শিকার ৩৫টি উইকেট, যেখানে বোলিং গড় ১৭.০৫ এবং ইকোনমি রেট ৪.০৫।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও নজর কেড়েছিলেন আলিস। সেখানে একটি ম্যাচে ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং আস্থা অর্জনে এই পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার আগেই জানিয়েছিলেন, "মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্যের কারণেই আলিসকে দলে নেওয়া হয়েছে।"
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এবার সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। উল্লেখ্য, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়ে ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান। ফলে এখন শুধু জয় নয়, নেট রানরেটের জটিল সমীকরণও মেলাতে হবে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দলকে। আগে ব্যাটিং করে ২৩৬ বা তার বেশি রান তুললে অন্তত ৪০ রানে জিততে হবে বাংলাদেশকে। আর রান এর চেয়ে কম হলে জয়ের ব্যবধান হতে হবে অন্তত ৪১ রান। তবেই জিম্বাবুয়েকে টপকে ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের জন্য।
বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলিস আল ইসলাম।