জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ধরে রাখতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে জয়ের আর কোনো বিকল্প নেই। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। জ্বরের কারণে প্রথম ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকা তারকা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ পুনরায় অনুশীলনে ফিরেছেন। তাকে আগামী ম্যাচে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
গত কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন মিরাজ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি হোটেলকক্ষে বিশ্রামে ছিলেন। অবশেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবুধাবিতে দলের নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবে তিনি এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেননি বলে জানা গেছে।
মিরাজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘তাকে আবার দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে। গত কয়েক দিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিল সে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়। আশা করি, আজ ও আগামীকাল আরও কিছুটা বিশ্রাম পেলে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয় বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এমন সংকটময় মুহূর্তে মিরাজ দলে ফিরলে দলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বড় সুবিধা পাবেন সিমন্স। উল্লেখ্য, চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। ফলে লিটনের অনুপস্থিতিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মিরাজের ফেরার সম্ভাবনা দলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
এদিকে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হারের ধাক্কা খেলেও দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি দেখছেন না সিমন্স। তার মতে, মাত্র একটি খারাপ ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করা সঠিক হবে না।
বাংলাদেশ দলের কোচ আরও বলেন, ‘দলের উদ্যম এখনো ভালো আছে। সকালে আমরা একটি ভালো বৈঠক করেছি। কোথায় ভালো করেছি, কোথায় ভুল করেছি, সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এখন আমাদের কী করতে হবে, সেটাও জানি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সিমন্স জানান, ভালো শুরু করার পর ব্যাটাররা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের সময় আমরা পরিস্থিতিটা ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। এমন শুরুর পর শুধু নিশ্চিত করতে হতো, যেন পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারি। তাহলেই ম্যাচটি জিততাম।’
ম্যাচ পরবর্তী হতাশায় দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দলের পারফরম্যান্স এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সিমন্সের বক্তব্যে ভিন্ন কথা শোনা গেছে।
তামিমের দেওয়া বার্তা সম্পর্কে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘তার মূল বার্তা ছিল কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। কোটি কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, সবাই আমাদের সফল দেখতে চায়।’
আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।