টানা তিনটি টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস। তবে সেই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের ফর্ম ফিরে পেলেন লিটন। তাঁর এই অনবদ্য ব্যাটিংয়ের ফলে আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের এক বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিনে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন লিটন। কাইস আহমেদের বলে ১১৫তম বলে একটি চার মেরে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ডানহাতি ব্যাটার ১১৭ বলে ১০২ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছিল ১৪টি চার।

চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং কৌশল অবলম্বন করেন লিটন, যিনি আগের দিন ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে তিনি ১৪৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। মিরাজ নিজেও ৯৭ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। লিটন আউট হওয়ার পরপরই ৭ উইকেটে ৩৭২ রান সংগ্রহ করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে লিটনের এই সেঞ্চুরির পথে ভাগ্যের সহায়তাও ছিল লক্ষণীয়। ব্যক্তিগত ১৪ ও ২৬ রানে থাকাকালীন তিনি দুবার জীবন পান। উভয়বারই বোলার ছিলেন কাইস আহমেদ। প্রথমবার স্লিপে ক্যাচ মিস করেন শহিদউল্লাহ কামাল এবং দ্বিতীয়বার নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন কাইস। এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েই ইনিংসটিকে বড় করতে সক্ষম হন লিটন।

এই ইনিংসের মাধ্যমে আরও একটি অনন্য ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন লিটন দাস। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আবুধাবি টেস্টের আগে তিন সংস্করণ মিলিয়ে লিটনের মোট রান ছিল ৮ হাজার ৯২৯। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ১৮ রান যোগ করেই তিনি ৯ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছে যান।

উল্লেখ্য, এই টেস্টের আগে লিটনের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টানা তিন ইনিংসে তিনি রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপর এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচেও শূন্য রানে ফেরেন তিনি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চারটি ইনিংসে শূন্যের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল তাঁর।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৯ বলে ৫৩ রান করে সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙেছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে প্রত্যাবর্তনের গল্পটিকে পূর্ণতা দিলেন এই ব্যাটার।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেটের দাপটে ২৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিড কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩৭২ রান যোগ করে আফগানিস্তানের সামনে পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য সেট করেছে বাংলাদেশ।