ব্যাট হাতে একই টেস্ট ম্যাচে ফিফটি ও সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি এবার উইকেটের পেছনেও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন লিটন দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে আটটি ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। এখন লিটনের সামনে সুযোগ রয়েছে বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোরও।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিনে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় ক্যাচটি ধরার মাধ্যমেই এই নতুন কীর্তি গড়েন লিটন। ইনিংসের ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে এবাদত হোসেনের বলে রহমত শাহ আউট হন। অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বলটি লাগান আফগান ব্যাটার, যা খুব সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন লিটন। ১২৪ বলে ৫১ রান করে মাঠ ছাড়েন রহমত শাহ।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রহমত শাহের আগে আবদুল মালিক ও শহিদউল্লাহ কামালকেও গ্লাভসবন্দী করেছিলেন লিটন। এর আগে প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিংও করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে সাতটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে মোট আট ডিসমিসালের নতুন রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ সাত ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল খালেদ মাসুদ পাইলটের দখলে। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ক্যাচ ও দুটি স্টাম্পিং করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেই রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন লিটন দাস।
তবে লিটনের সামনে এখন আরও বড় অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ ১১ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড যৌথভাবে তিনজনের দখলে। ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত এই অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে ১১টি ক্যাচ নিয়েছিলেন রাসেল। ২০১৩ সালে একই মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন ডি ভিলিয়ার্স। এরপর ২০১৮ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ক্যাচ নিয়ে তাঁদের পাশে নাম লেখান পন্ত।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত আটটি ডিসমিসাল করেছেন লিটন। চলতি টেস্টে আরও তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলে তিনি বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসাতে পারবেন। আর চারটি ডিসমিসাল করতে পারলে গড়বেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। তবে শুধুমাত্র ক্যাচের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করতে হলে তাঁকে আরও চারটি ক্যাচ নিতে হবে।
অবশ্য এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। রহমত শাহের বিদায়ে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত তিনটি উইকেট পড়েছে। বাকি সাত উইকেটের মধ্যে অন্তত তিনটিতে লিটনকে ভূমিকা রাখতে হবে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করার জন্য।
উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ বলে ১০২ রানের একটি সেঞ্চুরি ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই সেঞ্চুরির পর ৭ উইকেটে ৩৭২ রানেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।