বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র সাতটি উইকেট এবং হাতে ছিল পুরো একটি দিন। অন্যদিকে, ৪৭৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচ বাঁচানোর এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত সেদিকুল্লাহ আতালের অসাধারণ ধৈর্যশীল ব্যাটিং এবং লোয়ার অর্ডারের দৃঢ় প্রতিরোধে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় তারা। নিশ্চিত পরাজয়ের শঙ্কা কাটিয়ে পাওয়া এই ড্রকে জয়ের সমানই মনে করছেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের শেষ দিনে ৯২ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশকে জয়বঞ্চিত করে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে সব মিলিয়ে ১৪২ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তোলে তারা। ম্যাচ বাঁচানোর এমন লড়াইয়ে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে অত্যন্ত সন্তুষ্ট রহমত।

ম্যাচ শেষে ক্রিকবাজকে আফগান অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে এই ড্র আমাদের কাছে জয়ের সমান। ছেলেরা অসাধারণ চেষ্টা করেছে।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য আফগানিস্তান আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই পরিকল্পনা মাঠের লড়াইয়ে বাস্তবায়ন করতে পারার মধ্যেই সাফল্যের মূল কারণ খুঁজছেন রহমত।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলাম। বোলিং হোক কিংবা ব্যাটিং, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি। যখন রানের প্রয়োজন হয়েছে, রান করেছি। আর যখন উইকেটে সময় কাটানোর প্রয়োজন হয়েছে, সেটাই করেছি। এ কারণেই ম্যাচটি ড্র করতে পেরেছি।’

আফগানিস্তানের এই অদম্য প্রতিরোধের মূল কারিগর সেদিকুল্লাহ আতাল। চতুর্থ দিনের শেষে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার পঞ্চম দিনের শেষ সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের পুরোপুরি হতাশ করে রাখেন। ৩৩২ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন তিনি, যার মাধ্যমে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আক্রমণাত্মক ধারা থেকে এসে আতালের এমন ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বিশেষভাবে মুগ্ধ রহমত।

আফগান অধিনায়কের ভাষায়, ‘সেদিকুল্লাহ টি-টোয়েন্টি খেলে এখানে এসেছে। যেভাবে সে নিজের মেজাজ ধরে রেখেছে, দলের প্রয়োজন বুঝে খেলেছে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, সেটার কারণেই আমরা এই ফল পেয়েছি।’

তবে শুধু আতাল নন, শেষ দিকে ইয়ামিন আহমদজাই ও কাইস আহমেদের প্রতিরোধও বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আতাল আউট হওয়ার পরও প্রতিরোধ বজায় রাখেন ইয়ামিন। ৮৫ বল মোকাবিলা করে ১৯ রান করেন তিনি। অন্যদিকে, ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন কাইস।

ইয়ামিন আউট হওয়ার পর কাইসের সঙ্গে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জিয়াউর রহমান আকবর। ১২ বল খেলে কোনো রান না করলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। ফলে শেষ দুই উইকেট আর নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

দলের এমন লড়াকু ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ টবি র‍্যাডফোর্ডও। ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, ‘দলের দুজন সেঞ্চুরি করেছে, অন্যরা ফিফটি ও গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে অবদান রেখেছে। শেষদিকের ব্যাটাররাও আজ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলেছে।’

প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক রহমত নিজেই করেছিলেন অপরাজিত ১০৫ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন আতাল। তবে র‍্যাডফোর্ডের কাছে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল শেষ দিনে ব্যাটারদের ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে থাকা।

শেষ দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ সময় ব্যাট করা এবং ধৈর্য ধরে রাখা। মেডেন ওভার বা রান না হওয়া নিয়ে চিন্তা না করে ছোট ছোট সময়ের লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম। সেভাবেই পুরো দিন ব্যাট করার পরিকল্পনা ছিল।’

১৪০ ওভারের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন আফগান ব্যাটিং কোচ। তাঁর মতে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যাটিং ও ধৈর্যই শেষ পর্যন্ত দলকে এই ড্র এনে দিয়েছে।

প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি আফগানিস্তান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছিল তারা। শেষ দিনে আরও ২১৪ রান যোগ করলেও হারিয়েছে মাত্র পাঁচ উইকেট। আর তাতেই জয় হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের, আর রহমতদের কাছে এই ড্র হয়ে উঠেছে জয়ের সমান।