আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতি পর্যন্ত আফগানিস্তানের ব্যাটিং প্রতিরোধে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের প্রাথমিক সাফল্য পাওয়ার পর আবদুল মালিক ও অধিনায়ক রহমত শাহর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে চাপে পড়ে স্বাগতিক দল।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতির সময় ৪৫ ওভারে ২ উইকেটে ১৩১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের বিপরীতে স্বাগতিকরা তখনো ২১৫ রানে পিছিয়ে। ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন ৬০ রানে আবদুল মালিক এবং ৩৩ রানে অধিনায়ক রহমত শাহ। তৃতীয় উইকেটে তাদের এই অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ৬৭ রান।
দিনের দ্বিতীয় সেশন শুরু হয়েছিল ১ উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে। প্রথম সেশনে হাসান মাহমুদের বলে ১৭ রানে আউট হয়েছিলেন সেদিকুল্লাহ আতাল। বিরতির পর ইবাদত হোসেন বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন। ইনিংসের ২১তম ওভারে শহীদুল্লাহ কামালকে আউট করেন এই পেসার। হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে শহীদুল্লাহ ৪৪ বলে ২০ রান সংগ্রহ করেন। সেই সময়ে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৬৪ রান।
এরপরই শুরু হয় মালিক ও রহমত শাহর জুটি। বাংলাদেশের পেসারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও আক্রমণে আসেন, তবে উইকেটের দেখা পাননি তারা। অত্যন্ত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ১০০ রানের গণ্ডি পার করে আফগানিস্তান। এই লড়াইয়ের মাঝেই টেস্ট ক্যারিয়ারের আরও একটি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আবদুল মালিক। রহমত শাহ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে জুটিটিকে পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন। এরপর থেকে চা-বিরতি পর্যন্ত আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
মালিক ১১৮ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৬০ রান করেছেন। অন্যদিকে রহমত শাহর ৩৩ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা, যা তিনি সংগ্রহ করেন ৭৭ বলে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ১২ ওভারে ২৮ রান দিয়ে একটি এবং ইবাদত হোসেন ৮ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৮ ওভারে ১৫ রান এবং তাইজুল ইসলাম ১২ ওভারে ৩১ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।
এর আগে দিনের শুরুতে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ আরও ২৯ রান বাড়িয়ে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়। আগের দিন ৮ উইকেটে ৩১৭ রান ছিল তাদের সংগ্রহ। দলের সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়া শাদমান ইসলাম করেন ৬৭ ও লিটন দাস করেন ৫৩ রান। শেষ দিকে নাঈম হাসান ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহ বাড়ান।