দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউজিসি।

আজ শুক্রবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এপিস্টেমিক রিকনফিগারেশনস ইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ (ইআরএলএস) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে এই কথা বলেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বিদেশি ভাষায় পারদর্শিতা কেবল একটি অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি উচ্চশিক্ষা লাভ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময়, গবেষণায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তিনি বলেন, “দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও বিশ্বপরিসরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে মাতৃভাষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই মাতৃভাষা বাংলাকে জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে সমুন্নত রেখেই শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও জানান, সরকার বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা, জাপানি, কোরীয়, আরবি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালুর উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।” পাশাপাশি বিদেশে চাকরির ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি, কোরীয়, চীনা, ইংরেজি ও আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দা সারওয়াত আবেদ তার বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।