শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারের সাথে সমন্বয় রেখে ইউজিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস (বিআইএল) আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এপিস্টেমিক রিকনফিগারেশনস ইন ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ (ইআরএলএস) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য যে, ‘ডিকলোনিয়াল ডায়ালগস, ট্রান্সফরমেটিভ পাথওয়েজ অ্যান্ড এমপাওয়ার্ড প্র্যাকটিসেস’ প্রতিপাদ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিদেশি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন কেবল অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়; বরং উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও বিশ্বপরিসরে প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

মাতৃভাষার গুরুত্ব ও বিদেশি ভাষা শিক্ষার ভারসাম্য নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে মাতৃভাষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই মাতৃভাষা বাংলাকে জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে সমুন্নত রেখেই শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা, জাপানি, কোরীয়, আরবি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের পথ আরও প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থানের চাহিদা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি, কোরীয়, চীনা, ইংরেজি ও আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ভাষা শিক্ষার প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভাষা শিক্ষা শুধু যোগাযোগের দক্ষতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে প্রভাবিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের তথ্য ও জ্ঞান প্রদান করা নয়; বরং স্বাধীন চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, গবেষণার সক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার যোগ্যতা তৈরি করা। ভাষা শিক্ষা শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।”

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের পরিচালক ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক শায়লা সুলতানা।