মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্য দিলেও মাতারবাড়ী নিয়ে কী করা হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে এমন চুক্তি করা যাবে না, যাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের আগে গণভোটে যারা জয়ী হবে, তাদের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলেও তিনি জানান।
র্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্সিবিলিটি বাহিনী (এসআরবি) গঠনের বিষয়ে কথা বলে তিনি বলেন, “শুধু নাম পরিবর্তন করলেই হবে না। বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ কেবল সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন ও প্রকৃত সংস্কারের জন্য রায় দিয়েছে। তাই সরকারকে অবশ্যই সংস্কারের পথে ফিরে আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ মানুক বা না মানুক, সংস্কার বাস্তবায়ন করতেই হবে।
পরিশেষে জামায়াতের আমির জানান, তাদের সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সাধারণ জনগণের দাবি। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে এবং রাজপথে সোচ্চার থাকবেন।