গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন তৌফিক হাসান। এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তৌফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আলাপকালে তৌফিকের শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ ও ভরণপোষণের কথা চিন্তা করে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াত আমির।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নিহত তৌফিক হোসেনের স্ত্রী এবং বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এই ফোনালাপের সময় জেলা জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
ফোনে কথা বলার সময় তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া আবেগপ্লুত হয়ে জামায়াত আমিরকে জানান তাদের জীবন সংগ্রামের কথা। তিনি বলেন, “আমরা দুই এতিম ভাই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। অভাবের সংসারে আমাদের বেড়ে ওঠা। একই গার্মেন্টসে একই সঙ্গে দুই ভাই চাকরি করেছি। কিন্তু দেখতে দেখতে চোখের সামনে ভাইটিকে হারিয়ে ফেললাম। হাসপাতালে গিয়েও ভাইটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল। শেষ কথাটাও ভাইয়ের সঙ্গে বলতে পারলাম না।” কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তৌফিকের বড় ভাই।
তৌফিকের স্ত্রী জানান, অভাবের তাড়নায় তিনিও গার্মেন্টসে চাকরি করছেন। তবে একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য তৌফিক তার চাকরিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাদের সন্তান সিয়ামের বয়স বর্তমানে মাত্র ১১ মাস।
পরিবারটির করুণ অবস্থা দেখে ডা. শফিকুর রহমান গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাথা গোঁজার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এক ইঞ্চি জায়গাও তাদের নিজস্ব নেই। বর্তমানে তারা স্বামীর চাচার একটি ছোট ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে, তা জানি না। তবুও আমরা বিচার চাইব। সেই ন্যায্য বিচারটুকু পেলেও অন্তত এই বিধ্বস্ত স্ত্রী ও পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে। আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন।”
এই ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির আব্দুল করিম এমপি, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুন্নবী প্রধান, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল হোসেন সরকার, সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মশিউর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম রাজুসহ আরও অনেকে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং শিশুটির ভরণপোষণের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।