মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এরই ধারাবাহিকতায় এক নতুন আশার আলো দেখালেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার একদল গবেষক। তারা পৃথিবীতে এমন এক ধরনের মাইক্রোব বা অণুজীবের (ক্ষুদ্র জীব, যা খালি চোখে দেখা যায় না) সন্ধান পেয়েছেন, যা মঙ্গল গ্রহের চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গল গ্রহের ভূগর্ভস্থ পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অণুজীবটিকে সমুদ্রের পানির তুলনায় ৭ গুণ বেশি লবণাক্ত দ্রবণে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে কয়েক মাস রাখা হয়েছিল। অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই চরম পরিস্থিতিতেও অণুজীবটি কেবল বেঁচেই থাকেনি, বরং তার বৃদ্ধিও হয়েছে সন্তোষজনকভাবে। শুধু তাই নয়, প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান পেতে অণুজীবটি তার চারপাশের রাসায়নিক উপাদানগুলোকেও ব্যবহার করেছে। যদিও গবেষণাগারে মঙ্গল গ্রহের প্রকৃত আবহাওয়া বা তাপমাত্রা হুবহু তৈরি করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিজ্ঞানীদের ধারণা এই গবেষণা ভবিষ্যতে ওই গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অ্যাপ্লাইড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে, হালোফেরাক্স ভলকানিয়ি নামের এই অণুজীবটি সাধারণত মৃতসাগর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের উটার গ্রেট সল্ট লেকের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে পাওয়া যায়। মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত লবণাক্ত, অক্সিজেনহীন এবং কার্বন ডাই–অক্সাইডসমৃদ্ধ পরিবেশে ১৮০ দিন ধরে হালোফেরাক্স ভলকানিয়ি অণুজীবের নমুনা সংরক্ষণ করেন। এরপর সেখানে নাইট্রেট বা পারক্লোরেটের মতো রাসায়নিকের মিশ্রণ দেওয়া হয়, যা মঙ্গল গ্রহে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। দেখা গেছে, অণুজীবটি এই রাসায়নিকগুলোকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বংশবৃদ্ধি করতে পেরেছে এবং চরম প্রতিকূলতায় টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

এই গবেষণার সাথে যুক্ত বিজ্ঞানী অ্যাডাম রবিনসন জানান, “অতীতে মঙ্গল গ্রহে প্রাণ থাকলে পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু জীব ক্রমবর্ধমান প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মঙ্গল গ্রহের ভূগর্ভস্থে তরল পানির অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ এখনো না মিললেও এই গবেষণা ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।