ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচি পুলিশ মালয়ালম সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিবিন পেরুমপল্লি এবং অভিনেত্রী অতুল্য চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে। এক চিকিৎসককে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার রুপি মূল্যের মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের পাশাপাশি আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর কোচির ভিট্টিলা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন যে, অভিনেত্রী অতুল্য চন্দ্র তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর এক আত্মীয় অত্যন্ত অসুস্থ এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে জানাশোনা থাকায় চিকিৎসক দ্রুত সেখানে যেতে রাজি হন।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক লক্ষ্য করেন, সেখানে প্রায় ১২ জন ব্যক্তি তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে ঘিরে ধরা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে মাদক প্রয়োগ করে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তাঁকে সেখানে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
চিকিৎসকের অভিযোগ, অভিনেতা বিবিন পেরুমপল্লি প্রথমে তাঁর মুখে আঘাত করেন এবং পরবর্তীতে অন্য অভিযুক্তরাও এই মারধরে যোগ দেয়। এছাড়া অতুল্য চন্দ্র তাঁকে বিভিন্ন গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পাশাপাশি ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, একটি স্মার্টঘড়ি এবং ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ছিনিয়ে নেওয়া এসব সামগ্রীর মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার রুপি। সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে চিকিৎসক দ্রুত কোচির কদাভানথ্রা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই পুরো ঘটনায় মোট ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার তালিকায় বিবিন পেরুমপল্লিকে এক নম্বর এবং অতুল্য চন্দ্রকে তিন নম্বর আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাঁদের এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে বর্তমানে কার্যকর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় এই মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, মারধর, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে পুলিশ এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না।
গ্রেপ্তার হওয়া বিবিন পেরুমপল্লি একজন অভিনেতা ও প্রযোজক। গত বছর মুক্তি পাওয়া মালয়ালম সুপারহিরো সিনেমা ‘লোকাহ: চ্যাপ্টার ১—চন্দ্র’-তে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। এছাড়া ‘সীতা রামম’, ‘কিং অব কোঠা’ ও ‘ররশাচ’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া অতুল্য চন্দ্র মালয়ালমসহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ডাইস ইরে’, ‘গানগান্ধর্বন’, ‘ইন্নালে ভারে’ ও ‘উইর’।