সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বড় ধরনের দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ দল। ফিল্ডিং করার সময় বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট পেয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। আঘাতটি এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি নিজের পায়ে হেঁটে মাঠ ত্যাগ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারের সাহায্যে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে চলতি টেস্ট ম্যাচে তার ব্যাটিং করার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে। মেহেদী হাসান মিরাজের করা প্রথম বলে আমির জাঙ্গু লেগ সাইডে একটি ফ্লিক শট খেলেন। বাউন্ডারির দিকে দ্রুত গতিতে যাওয়া বলটি আটকাতে মরিয়া হয়ে ছুটে যান সাদমান। তবে নিচু হয়ে বলটি থামানোর চেষ্টা করার মুহূর্তে ঘাসে আটকে যায় তার বাঁ পায়ের গোড়ালি। এতে ভারসাম্য হারিয়ে পা মচকে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
মাটিতে পড়ার পরপরই তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন এই বাংলাদেশি ওপেনার। তার অবস্থা দেখে সতীর্থরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং মাঠের ভেতরে প্রবেশ করেন দলের চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার জুতা খুলে দেওয়া হলেও ব্যথার তীব্রতা কমেনি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে সাদমানকে ড্রেসিংরুমে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে পায়ের ব্যথা এবং ফোলা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারছেন না এবং চলাফেরার জন্য তাকে হুইলচেয়ারের সাহায্য নিতে হয়েছে।
হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে তার চোটের প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। তবে পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত তিনি কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাদমানের এই চোট বাংলাদেশ দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে এই বাঁহাতি ওপেনার ১০৫ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। ফলে সিলেটেও ব্যাটিংয়ে তার ওপর বড় দায়িত্ব অর্পিত ছিল।
দুই ম্যাচের এই সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো শেষ টেস্টটি জিতে সিরিজে সমতা ফেরানো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সাদমান যদি ব্যাট করতে না পারেন, তবে স্বাগতিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।