বল হাতে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ছয় উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি দিলেও ব্যাটিংয়ে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিক দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ। যদিও মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়ের দৃঢ় প্রতিরোধে কিছুটা সামলে উঠেছে দল, তবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দ্বিতীয় দিনের খেলা আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হয়। ৪০ ওভারের খেলা শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। দিনের শেষ দিকে ব্যাট হাতে লড়াই করে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তাওহিদ হৃদয় এবং ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতেই আক্রমণাত্মক বোলিং শুরু করেন হাসান মাহমুদ। পরপর দুই বলে ১৩৩ রান করা আমির জাঙ্গু ও রোস্টন চেজকে আউট করে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি। পরবর্তীতে জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফকেও প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে নিজের উইকেট সংখ্যা ছয়ে উন্নীত করেন এই ডানহাতি পেসার।
তবে হাসান মাহমুদের এই দাপট সত্ত্বেও শেষ দিকে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের রান আটকাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। জাস্টিন গ্রিভসের ৫১ রানের ইনিংস এবং শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসের মধ্যকার ৩৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটির সৌজন্যে ৩৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। চোট পাওয়া সাদমান ইসলামের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান মাত্র ৫ রান করে আউট হন। এরপর তানজিদ হাসান ১৬ রান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৫১ রান তোলার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন হৃদয় ও মুশফিকুর। চতুর্থ উইকেটে তারা অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি গড়ে দিনের বাকি সময়টুকু পার করেন। তবে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে তৃতীয় দিনে টিকে থাকার জন্য এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।