রোহিত শর্মা, স্টিভ স্মিথ কিংবা বিরাট কোহলি—টেস্ট ক্রিকেটের বড় বড় তারকাদের নিয়মিত শিকারে পরিণত করেছেন হাসান মাহমুদ। সম্প্রতি সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ছয় উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের এতসব সাফল্যের মাঝেও একটি উইকেটের স্মৃতি তার কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি বিশেষ। সেটি হলো ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির উইকেট। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রিয় শিকার হিসেবে কোহলির নামই উল্লেখ করেছেন এই বাংলাদেশি পেসার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন হাসান। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ছয় উইকেট শিকারের আনন্দ তখন তার চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, বাবর আজম, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা কিংবা স্টিভ স্মিথের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যের মধ্যে কোন উইকেটটি তার সবচেয়ে প্রিয়। জবাবে হাসান বলেন, ‘অবশ্যই বিরাট কোহলি উইকেট।’

বিরাট কোহলিকে আউট করার সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের। ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাসান দুর্দান্ত বোলিং শুরু করেছিলেন। শুরুতেই তিনি ফিরিয়ে আনেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলকে। এরপরই তার শিকার হন কোহলি।

ইনিংসের দশম ওভারের তৃতীয় বলে হাসান অফ স্টাম্পের বাইরে একটি ডেলিভারি করেন। সেই বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ভারতীয় তারকার ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। মাত্র ৬ রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় কোহলিকে। হাসানের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক।

সেদিন শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। এর মাধ্যমে ভারতের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।

পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারে আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত এসেছে। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ৫৫ রানে ছয় উইকেট নেওয়ার পর স্টিভ স্মিথকে আউট করাকে তিনি বিশেষ শিকার হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে পুরো ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে সবচেয়ে প্রিয় উইকেট জানতে চাইলে এবার তিনি কোহলিকেই বেছে নিলেন।

এছাড়া অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন হাসান। আর এবার সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪ ওভারে ৯০ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে দেশের মাটিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন তিনি।

তবে প্রতিটি পাঁচ উইকেটের সাফল্যকেই তিনি বিশেষ মনে করেন। সংবাদ সম্মেলনে হাসান বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট তো সবগুলোই বলতে গেলে স্পেশাল। সব জায়গায় চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দিয়ে দলের জন্য অবদান রাখতে।’

সিলেটের উইকেট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এই পেসার জানান, দিনের শুরুর এক-দুই ঘণ্টা পেসারদের জন্য কিছুটা সহায়ক থাকলেও পরবর্তীতে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করেই তিনি সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন।

মাত্র ১৯টি টেস্ট খেলে পাঁচবার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এই অর্জনে এখন তিনিই শীর্ষে অবস্থান করছেন। এই তালিকায় চারবার পাঁচ উইকেট নেওয়া শাহাদাত হোসেনকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

এতসব রেকর্ড ও সাফল্যের ভিড়েও কোহলির উইকেটটি তার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে। চেন্নাইয়ের সেই সাফল্যই যে তার মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে, তা আবারও নিশ্চিত করলেন এই তরুণ পেসার।