ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৩৫/৪ (জাঙ্গু ১১১*, উইকহ্যাম ৬১, গ্রিভস ৩৫*, জশুয়া ১২, কিং ৯; তাসকিন ২/৬১, হাসান ২/৫৮)।

আলোকস্বল্পতার কারণে প্রথম দিনের খেলা কিছুটা আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় হিসাবটি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। তবে আরও কিছুক্ষণ খেলা হলে পেসার এবং স্পিনারদের পারফরম্যান্সের মধ্যকার ব্যবধানটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত। যদিও মাত্র প্রথম দিন শেষ হয়েছে, তাই আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

তবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সারা দিনে হতে পারা ৭০ ওভারের খেলাই এই ইঙ্গিত দিতে যথেষ্ট যে, একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা ভুল করে ফেলেছে। এর আগে মিরপুর টেস্টেও তিন স্পিনার খেলিয়ে সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। সিলেটেও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে এরই মধ্যে মাশুল গুনতে শুরু করেছে তারা।

দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ, যারা সমান ১৪ ওভার করে বল করেছেন। অন্যদিকে তিন স্পিনার মোট ৪২ ওভার বল করলেও কোনো উইকেট পাননি, এমনকি ব্যাটসম্যানদের আউটের মতো কোনো সুযোগও তৈরি করতে পারেননি তারা।

সারা দিনে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা চারটি ক্যাচ ছেড়েছেন, যার সবগুলোই ছিল পেসারদের বলে আসা সুযোগ। স্পিনাররা কোনো এলবিডব্লিউ বা ক্যাচ আউটের জন্য রিভিউ নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গতদিন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছিলেন, “এপ্রিলে এই মাঠে খেলা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের উইকেটের মতোই মনে হচ্ছে এবারের উইকেট।” উল্লেখ্য, ওই ম্যাচেও একাদশে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ।

আজকের দিনে আকাশে মেঘ ছিল এবং শীতের আমেজযুক্ত কুয়াশার প্রভাব ছিল। সকালে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিং শুরু করেন। বলের মুভমেন্ট এবং বাউন্স তাদের অনুকূলে ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ২৭ রানের বিনিময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ উইকেট তুলে নেন এই দুই পেসার।

শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাঁর একটি ফুল লেন্থ বল ভেতরে ঢুকে ব্রেন্ডন কিংয়ের স্টাম্প উপড়ে ফেলে। পরের ওভারেই উইকেট পান হাসান মাহমুদ। ওই ওভারে তাঁর একটি বাড়তি বাউন্স বল কেভাম হজকে অল্পের জন্য বোল্ড হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল। তবে পঞ্চম বলে পুনরায় একই চেষ্টা করে বোল্ড হয়ে যান হজ।

নিজের স্পেলের পঞ্চম ওভারে আরও একটি উইকেট পান তাসকিন। তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হন জশুয়া ডি সিলভা। তবে ততক্ষণে গরম বেড়ে যাওয়ায় তাসকিন বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। প্রায় প্রতি ওভারের শেষে তাঁকে বাউন্ডারি লাইনে ছুটে যেতে দেখা যায়, যেখানে ভেজা তোয়ালে নিয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।

প্রচুর ঘামতে থাকা তাসকিনকে ৭ ওভারের মাথায় থামতে হয়। ইনিংসের দশম ওভারের পর দুই প্রান্ত থেকেই পেস বোলিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ তখনও বল মুভ করছিল, বাউন্স ছিল এবং আকাশ থেকেও মেঘ পুরোপুরি সরেনি।

মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে স্পিন আক্রমণ শুরু হলেও তারা উইকেট নেওয়া তো দূরে থাক, সুযোগও তৈরি করতে পারছিলেন না। মাঝে দুই ওভার বিরতি দিয়ে তাসকিনের প্রান্ত থেকে বোলিংয়ে ফেরানো হয় হাসান মাহমুদকে। তবে দুই ওভার বল করেও তিনি আর উইকেট পাননি। প্রথম সেশনের বাকি সময়ে কোনো বোলারই উইকেট আনতে পারেননি।

ততক্ষণে কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর জুটি থিতু হয়ে যায়। উইকেটের দেখা না পেয়ে হাসান মাহমুদ নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসেন এবং উইকহ্যামকে শর্ট বল করতে শুরু করেন। এরপর হেলমেট পরিয়ে শর্ট লেগে ফিল্ডার বসানো হয়।

এই পরিকল্পনা কাজে দেয়। হাসানের একটি গুড লেন্থ বল ভেতরে ঢুকে উইকহ্যামের অফ স্টাম্প ভেঙে দেয়। তবে ৬১ রানে আউট হওয়ার আগে জাঙ্গুর সঙ্গে তাঁর ১৩১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যায়।

সেই ধারা বজায় রেখে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যান জাঙ্গু। ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার তিন অঙ্কের রান করলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের সেঞ্চুরিতে তিনি ২৩৩ রান করেছিলেন। এবার তিনি কতদূর যান, সেটিই দেখার বিষয়। আগামীকাল ৩৫ রান করা জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ১১১ রানে অপরাজিত হয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন জাঙ্গু।