অংশীদারি ব্যবসা এবং সোসাইটি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এখন থেকে আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা পুরনো আবেদনগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এই লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই সংস্থাটি গত সোমবার সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাটি জারি করে।

এই উদ্যোগের বিষয়ে আরজেএসসির নিবন্ধক (অতিরিক্ত সচিব) আহমেদ উল্লাহ বৃহস্পতিবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিশ্চিত, নাগরিকসেবা সহজ ও অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্দেশে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে।”

নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নিবন্ধন প্রদান করা হবে। যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে জানাতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা তথ্যের ঘাটতি পরিলক্ষিত হলে, তা সংশোধন বা পূরণের জন্য আবেদনকারীকে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এই বিষয়টি আবেদনকারীকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার কথা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন আরজেএসসির নিবন্ধকের কাছে জমা দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনটি হয় অনুমোদন অথবা নামঞ্জুর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, পার্টনারশিপ ফার্মের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, সোসাইটি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুসরণ করা হয়।

আরজেএসসির ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৪ হাজার ২২টি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন হয়। এছাড়া দেশে নিবন্ধিত সোসাইটির মোট সংখ্যা ১৭ হাজার ৪২৯। সাধারণত বছরে গড়ে ২০০টি সোসাইটি নিবন্ধন হলেও একক বছর হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে, যখন মোট ৯৪১টি সোসাইটি নিবন্ধিত হয়।