কোম্পানির সংঘস্মারক পরিবর্তনের ক্ষমতা আদালতের পরিবর্তে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) রেজিস্ট্রারের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ব্যবসাবান্ধব বলে অভিহিত করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য আরজেএসসির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা আইনে উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব আলোচনা হয়। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার জানান, ব্যবসা সহজ করা, এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সিএসআর অন্তর্ভুক্ত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের ৪০টি ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সংঘস্মারক সংশোধনের ক্ষমতা আদালতের পরিবর্তে রেজিস্ট্রারের হাতে গেলে সময় ও ব্যয় কমবে।" এছাড়া নিষ্ক্রিয় কোম্পানির নাম নিবন্ধন বই থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কোম্পানির নাম পরিবর্তনের আদেশ অমান্য করলে প্রতিদিনের জরিমানা ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক ব্যক্তি কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম সীমা ২৫ লাখ থেকে কমিয়ে ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূলধন ৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওপিসির ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, "১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইন প্রণয়নের পর মাত্র দুটি ছোট সংশোধন হয়েছে। এখন আইনটিকে সময়োপযোগী করতে চায় সরকার।" তিনি জানান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম আধুনিক করার চেষ্টা চলছে। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংশোধন একটি বড় কর্মপরিকল্পনার অংশ। মন্ত্রী ব্যবসায়ী নেতাদের এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির ডিজিটাল করপোরেট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি কোম্পানির ২০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা থাকা ব্যক্তিদের হিতগ্রাহী স্বত্ব (বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ) সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিল করার এবং সামাজিক দায়দায়িত্ব-সংক্রান্ত বিধান বাতিলের প্রস্তাব করেন।

ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরজেএসসির ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব আনা এবং প্রধানের ঘন ঘন বদলি বন্ধ করে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার কথা বলেন। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অন্য কোম্পানির নামের সাদৃশ্য ব্যবহার করলে কোম্পানি বাতিল করার ক্ষমতা রেজিস্ট্রারের দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে প্রশংসা করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।