ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে মো. ফজলুল হকের নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী আলাউদ্দিন আল মাসুমকে আগামী ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে মো. ফজলুল হকের দায়িত্ব পালন এবং এফবিসিসিআইয়ের পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুলাই, যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মো. ফজলুল হককে ১২০ দিনের জন্য এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি এর আগে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই নিয়োগ স্মারকে উল্লেখ করা হয়, “২০২২ সালের বাণিজ্য সংগঠন আইনের ১৭ ধারা অনুসারে সরকারের অনুমোদনক্রমে এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের স্বার্থে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হককে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। তিনি ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ওই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।”

তবে এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলাউদ্দিন আল মাসুম একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। গত ১৭ আগস্ট প্রাথমিক শুনানিতে হাইকোর্ট ওই স্মারক অবৈধ ঘোষণা না করার কারণ দর্শিয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফজলুল হক নির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং চার মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লিভ টু আপিল বা আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে, যা আজকের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম।

শুনানি শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “হাইকোর্ট বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশ এবং আদেশ দিতে পারবেন না, যেটা কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়–বিভাগ আইনগতভাবে করতে বাধ্য নয়।…চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশের অর্থ হলো যে এফবিসিসিআইয়ের জন্য সরকারের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক এবং তাঁকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন করার এবং আইনসিদ্ধভাবে এটা সরকারের পক্ষে সুযোগ আছে। এই সময়টি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ফজলুল হকের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকল না।”

রিট আবেদনকারী আলাউদ্দিন আল মাসুমের পূর্ববর্তী কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, তিনি এর আগে এফবিসিসিআই নিয়ে বেশ কিছু রিট করেছিলেন। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর তিনি তাঁর আগের একটি রিট আবেদন, যার রুল শুনানির কথা সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, তা ২৩ আগস্ট নন প্রসিকিউশন বা প্রত্যাহার করে নেন। রুহুল কুদ্দুস বলেন, “অর্থাৎ ১৭ আগস্ট তাঁর পক্ষে আদেশ হলো, তিনি পূর্বের আপিল বিভাগের আদেশকে উপেক্ষা করে তার আগের দায়ের করা মামলার রুল শুনানি না করে সেটি প্রত্যাহার বা নন প্রসিকিউশন করে নিলেন। আলাউদ্দিন আল মাসুমের এই কন্ডাক্টটা (এই কাজ) চেম্বার বিচারপতির সামনে উল্লেখ করা হয়েছে। চেম্বার বিচারপতি তার যে আদালতকে বিভ্রান্ত করা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আদালত অবমাননার শামিল কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে আগামী ১৬ নভেম্বর সশরীর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”