দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই চরম ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের শাসনকালে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি, বরং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলামের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপি দমনপীড়ন নীতি অবলম্বন করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত আন্দোলনের সমাধান করা উচিত।”

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তারা জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছেন। নাহিদ ইসলামের দাবি, জ্বালানি খাত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতের উন্নতির জন্য লিখিতভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল এই সরকারকে।

আওয়ামী লীগের তৎপরতা মোকাবিলায় বিএনপির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের যে অপতৎপরতা, সেই অপতৎপরতা ঠেকাতে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গত ১৬ বছরেও ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বিএনপি বড় দল হতে পারে, কিন্তু তারা একটা আপসকামী দল। বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন হলেও তার বেশিরভাগ নেতারা আপসকামী। বিএনপি আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পারবে না, এর জন্য সাধারণ মানুষকে আবারও রাজপথে সজাগ থাকতে হবে। এই সরকার হলো একটি অজুহাতের সরকার। সরকারের সব ব্যর্থতার জন্য অজুহাত রয়েছে।”

দিনাজপুরের এই আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণের পাশাপাশি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সব উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।