জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরের ১০ গোলচত্বরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার লক্ষ্যে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এই পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিগত তিনটি সংসদকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানান। তিনি বলেন, “বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে, আমরাও মনে করি অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে এটা বলার সুযোগ নেই। কারণ বিএনপি সরকার ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি।”
সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখনো সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেই অবৈধ সংসদের ধারাবাহিকতা এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আমরা নতুনভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গঠন করার।”
নাহিদ ইসলামের মতে, যদি পুরোনো ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “পুরোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচাইতে ভালো সংশোধনীও আনেন, ভবিষ্যতে এমন হতে পারে সেই সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার এবং অন্তর্বর্তী সময়টাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আমরা দেখেছি কীভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে একজন অবৈধ দখলদার ক্ষমতা দখলদার হিসেবে আওয়ামী লীগ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল।”
তারেক রহমানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি আরও বলেন, “এটা যে তারেক রহমানের সঙ্গে হবে না, এর কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নাই। ফলে তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা বলছি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরনো সংসদ, পুরনো অবৈধ সরকার এবং যে পুরনো ফ্যাসিস্ট সংবিধান সেই সাংবিধানিক কাঠামো ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের নতুনভাবে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করুন।”
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সমতল থেকে শুরু করে পাহাড় পর্যন্ত সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলার খারাপ পরিস্থিতি এখন সমতল থেকে পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। পাহাড় অশান্ত কেন এটার সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার পাহাড়কে শান্ত রাখতে, স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড়ে কারা অস্থিতিশীলতা করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কীভাবে তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে এটা জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে। কারণ এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।”
পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতার পেছনে ভারতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, “এই গোপন আঁতাতের ফলেই পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নানাভাবে। আমরা জানি পাহাড়ে কারা অস্ত্র দেয়, পাহাড়ে কারা অশান্তি তৈরি করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কথিত বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার যখন প্রয়োজন হয়, তখন তারা পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করে।”