সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় খাঁচায় আটকা পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বিপন্ন প্রজাতির বনবিড়ালের ছানা উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে কর্মরত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসাধীন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শাহাপুর গ্রাম থেকে বন্যপ্রাণী অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়াইল্ডলাইফ মিশন’-এর সদস্যরা ছানাটিকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে শাহাপুর গ্রামের একটি বাড়িতে খাঁচায় মা বনবিড়ালসহ ছানাটি আটকা পড়ে। পরবর্তীতে কৌশলে মা বনবিড়ালটি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, গলার অংশে গুরুতর জখম হওয়ার কারণে ছানাটি খাঁচাতেই আটকা পড়ে থাকে।

ঘটনাটি স্থানীয় তরুণ শাওন মোল্যা লক্ষ্য করেন এবং দ্রুত বিষয়টি ‘ওয়াইল্ডলাইফ মিশন’-এর সভাপতি জুলফিকার রায়হান ও সদস্য সেলিম শেখকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছানাটিকে উদ্ধার করেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুম বিল্লাহ ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তৌহিদ কামাল খান ছানাটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।

এই বিষয়ে ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সভাপতি জুলফিকার রায়হান বলেন, “বনবিড়াল কৃষকের নীরব বন্ধু। ইঁদুরসহ ফসলের ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে এটি কৃষকের উপকার করে। অথচ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী বনবিড়াল হত্যা বা আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার তত্ত্বাবধানে ছানাটি উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে প্রাণীটি ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের সাময়িক হেফাজতে রয়েছে। সেখানে সেটিকে প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রশাসন ও বন বিভাগের সহায়তায় উপযুক্ত পরিবেশে ছানাটিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।