সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মাছ চুরির সন্দেহে এক ব্যবসায়ীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫২) হিসেবে। তিনি তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় মাছের ঘেরের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে জেয়ালা উত্তর খোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহ করা হলে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। এরপর ১০–১৫ জনের একটি দল তাঁকে জেয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রচণ্ড মারধর করে।

আজ সকাল আটটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় গুরুতর আহত ক্ষিতিশকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম জানান, আজ সকাল আটটার দিকে ক্ষিতিশ মন্ডলকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল, কিন্তু এর মধ্যেই দুপুরে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ক্ষিতিশের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাঁর চাচাতো ভাইয়ের নিজেরই চার বিঘা জমিতে মাছের ঘের রয়েছে। চুরির সন্দেহে একজন মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে!”

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ক্ষিতিশকে মারধরের খবর পেয়ে উদ্ধারে গিয়েছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী সুলেখা মন্ডল। তিনি বলেন, “তখনো ক্ষিতিশ কথা বলতে পারছিলেন। মারধরে জড়িত কয়েকজনের নামও তাঁকে বলেছিলেন।” তিনি আরও জানান, প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”