কলেজে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক কিশোরীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামের বাসিন্দা নীলা খাতুন (১৬) গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। এই ঘটনার পর তাঁর বাবা বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত নীলা খাতুন উপজেলার মাগুরা আইডিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ধুলন্ডা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

মামলার এজাহার এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) নিয়মিতভাবে কলেজে যাতায়াতের পথে নীলাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতেন। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নীলার কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে নীলা এই পুরো বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানান।

ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত শুক্রবার দুপুরে নীলার বাবা লিটন শেখকে ধরে প্রতিবেশী আমজেত শেখের বাড়ির উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সেখানে রকি শেখ, শোয়েব মালী, ইমন শেখ, আমজেত শেখ, ইমরান শেখ ও আকলিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে নীলা এবং তাঁর মা-কেও অভিযুক্তরা মারধর করেন বলে জানা গেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যার আগে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নীলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লিটন শেখ গতকাল তালা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন আমজেত শেখ, রকি শেখ, শোয়েব মালী, ইমন শেখ, ইমরান শেখ, আকলিমা খাতুন ও আকবর শেখ।

ঘটনা প্রসঙ্গে তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম জানান, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল, এরই মধ্যে নীলার মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিজের মেয়ের মৃত্যুতে শোকাতুর বাবা লিটন শেখ আজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি শুক্রবারই স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। ওসি সাহেবকে সব ঘটনা জানিয়েছিলাম। মামলা লিখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সত্যিই আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলল।” তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, “আমি থানায় মামলা করেছি। বলেছি, আমার মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”