সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

গতকাল রোববার রাত নয়টার দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশি অভিযানে আটক হওয়া তিন ব্যক্তির নাম হলো হাজরাকাটি গ্রামের ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস ও রাশেদ খাঁ।

ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য সোহেল শেখ অভিযোগ করেছেন যে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশকে সহায়তা করার কারণে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি জানান, ৩ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে হাজরাকাটি বাজারে নজরুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হজরত সরদার তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। সেই সময় তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার ওই রাতেই তালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সোহেল শেখ। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক সেবনের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার কারণে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। এই মারধরের ফলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখম হয়েছে।

সোহেল শেখ আজ সোমবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় একই বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে পানি খেয়ে বের হওয়ার সময় তাঁকে গালিগালাজ করেন হজরত সরদার এবং টি-শার্টের কলার ধরে মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে সোহেলকে দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। তখন তিনি থানায় খবর দেন।”

সোহেল শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হজরত সরদার ও ফারুক বিশ্বাসকে আটক করে। তবে তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গীরা বাধা দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ায়। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে হজরত সরদার সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করেন।

পুলিশের কাজে সরাসরি বাধা দিয়ে সদস্যদের অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। তবে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে ত্রাসের সৃষ্টি করছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সেখান থেকেই ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পুলিশের কাজে সরাসরি বাধা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে ত্রাসের সৃষ্টি করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে সোহেল শেখকে মারধরের অভিযোগের সঙ্গে গতকাল রাতের অভিযানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন ওসি। তিনি আরও জানান, ওই মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালানো হয়নি, এটি ছিল আলাদা একটি অভিযান।