যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতেই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জয়ের পর বিরোধী শিবিরের নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, দেশের সামগ্রিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তাঁর প্রশাসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে।
নির্বাচনের রাতে পলিটিকোর লাইভ সম্প্রচারে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশের ভালো নিশ্চিত করতে আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
সাবেক কঠোর অবস্থানের তুলনায় এবার কিছুটা নরম সুরেই কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি স্বীকার করেন যে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস থেকে পাস হয়ে আসা যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে। তবে আগামী দুই বছর কেবল বসে থেকে সব বিলে ভেটো দিয়ে সময় কাটাতে চান না তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প সম্পূর্ণ বিপরীত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
পলিটিকোকে ট্রাম্প আরও জানান, ‘তারা এরই মধ্যে আমাকে ফোন করেছে। তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়।’ তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
নির্বাচনের এই লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল ঢেউয়ে’ কার্যত ভেসে গেছে রিপাবলিকানদের ‘লাল’ দুর্গ। ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে ২২৪টি আসনে জয়লাভ করেছে, যেখানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৩৮টি আসন। এখনো ৭৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হওয়া বাকি রয়েছে, যার মধ্যে ৩২টি আসনে ডেমোক্র্যাট এবং ৩৩টি আসনে রিপাবলিকানরা এগিয়ে আছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যেতে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নতুন করে ২৭টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটার সিদ্ধান্তই রিপাবলিকান দলের (জিওপি) এই বড় পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই বলেন ইরানের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, ইরান বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল। আমাদের দেশ, এমনকি পুরো বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি মঙ্গলের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আর এখনো আমার সিদ্ধান্তটি সঠিকই আছে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে এত বিপুল সংখ্যক রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, আমি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম না। এ বিষয়ে আমার কিছুই করার ছিল না। আমি প্রার্থী থাকলে আমরা জিততাম।’