মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে ‘লাল দুর্গ’ একসময় অজেয় মনে হতো, তা এখন তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে পড়েছে। কট্টর রিপাবলিকান অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির মুখে পড়েছে ট্রাম্পের দল। এর মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যাঁদের ওপর ভর করে ট্রাম্প একাধিকবার হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, ‘মনে করুন ব্যালটে আমিই আছি।’ তবে এ কথা তিনি একবার বা দুবার নয়, ঠিক ৪৭ বার পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। ভোটাররা ট্রাম্পের কথা শুনেছেন—তবে তিনি যেমনটা আশা করেছিলেন, সেভাবে নয়।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের এই সুনামি এক দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে রাজত্ব করা এক চরম অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের মুখ থুবড়ে পড়ারই চিত্র তুলে ধরেছে। পূর্বসূরিদের চেয়েও বেশি ট্রাম্প নিজের কাঁধে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে গণভোটের রূপ দিয়েছিলেন, আর শেষ পর্যন্ত তারই খেসারত দিতে হলো তাঁকে।

নির্বাচনী ধাক্কা ছড়িয়ে পড়েছে কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেও। এতে স্পষ্ট, ট্রাম্পকে দুবার হোয়াইট হাউসে বসানো ভোটব্যাংকের ওপর থেকে তাঁর নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম, ইরানের সঙ্গে সমাধানহীন যুদ্ধ এবং ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মুনাফাখোরির অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভোটাররা। যাঁরা একসময় পরিবর্তনের আশায় রাজনীতি-বহির্ভূত এই ব্যক্তির ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তাঁরা এবার হয় তাঁর দলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, না হয় ভোটদান থেকেই বিরত থেকেছেন।

বুধবার সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক জাতীয় ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের পর কোনো কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো দলের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন এবং ২০১০ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে রিপাবলিকানদের যে দুটি ঐতিহাসিক জয় হয়েছিল, এবার ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান সেটিকেও ছাপিয়ে গেছে।

আসন পুনর্নির্ধারণের কারণে অবশ্য এই বিপুল ভোটের ব্যবধান হয়তো অতীত ঐতিহাসিক বছরগুলোর মতো সমপরিমাণ আসনে রূপান্তরিত না-ও হতে পারে। কারণ, ‘কৃত্রিমভাবে সীমানা বিন্যাসের ফলে প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের সামগ্রিক জয়ের এই ব্যবধান ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের আর দুই বছর মেয়াদ থাকলেও এবং তিনি এখনো তাঁর ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাতে পারলেও—মার্কিনিরা মূলত ট্রাম্প–যুগের সমাপ্তির সূচনা ঘোষণা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময় হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক পরিচালক ডগলাস সসনিক বলেন, ‘এটি ট্রাম্প, রিপাবলিকান পার্টি এবং গত দুই বছরে তারা যা করেছে, তার প্রতি এক চরম প্রত্যাখ্যান।’ ডগলাস আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ থেকেই আমরা এক নতুন ও পরিবর্তনের ধাপে প্রবেশ করছি, যা আগামী দুই বছর ধরে চলবে। আর এই সময়টা গত দুই বছরের চেয়ে অনেক বেশি অস্থির হতে যাচ্ছে।’

ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়কে নিজের বিরুদ্ধে জনগণের রায় নয় বলে চটজলদি বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ব্যালটে তিনি নিজে ছিলেন না—যদিও তিনি ভোটারদের বারবার তাঁর নাম মনে করে ভোট দিতে বলেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না; আর আমি ছিলাম না বলেই আমরা পর্যাপ্ত ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে টানতে পারিনি।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবিতে খোদ রিপাবলিকানদের অনেকে ভুরু কুঁচকাবেন। কারণ, এই প্রচার পুরোটাই ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিজেই নিয়েছিলেন, যার প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। নির্বাচনে প্রার্থী, আলোচনার ইস্যু, কৌশল ও মূল বক্তব্য—সবই ঠিক করেছিলেন তিনি।

নিজের দল থেকেই শতভাগ আনুগত্য দাবি করেছিলেন ট্রাম্প, যা দলের প্রার্থীদের তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন করে তুলেছিল। আর কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় নিজের ব্যবসা ও আয়রোজগার–সংক্রান্ত নৈতিকতার প্রশ্নগুলোকে তিনি বারবার তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন, যা ভোটারদের মনে দুর্নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কট্টর ‘রেড স্টেটগুলোতে’ অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দের দুই সিনেট প্রার্থী—টেক্সাসের কেন প্যাক্সটন ও সাউথ ক্যারোলাইনার ডারলিন গ্রাহামের পরাজয় তাঁর হস্তক্ষেপের পরিণতি স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ ছাড়া রিপাবলিকানদের সুবিধার্থে দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাধারণ নিয়ম ভেঙে প্রতিনিধি পরিষদের আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য তাঁর দেওয়া চাপ বুমেরাং হয়েছে।

অনেক ভোটার জরিপকারীও সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের আশ্বাসে প্রতারিত বোধ করেছেন। তাঁরা ভেবেছিলেন তিনি জিনিসপত্রের দাম কমাবেন এবং নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। তাঁরা সীমান্ত বন্ধের আশা করলেও বছরের পর বছর ধরে দেশে বাস করা মানুষদের ওপর যেভাবে কঠোর গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে, তা তাঁরা মেনে নিতে পারেননি। এ ছাড়া ভোক্তাদের খরচ বাড়িয়ে দেওয়া আমদানি শুল্কের নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

নির্বাচনের আগের দিন ট্রাম্প যেভাবে সময় কাটিয়েছেন, তা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় তাঁর রাজনৈতিক মনোভাব পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যহীন ছিল। অনেক ভোটারের জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত উদ্বেগ কমানোর পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়ার বদলে তিনি রিফ্লেক্টিং পুলের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর সমাপনী ভাষণ দেন, যেখানে তিনি শেওলা ও পাইপলাইন নিয়ে কথা বলেন।

ভোটাররা কিসে বিরক্ত হচ্ছেন সেই সতর্কসংকেত থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের প্রিয় নির্মাণ প্রকল্পগুলোর প্রতি তাঁর মোহ বাস্তবতার এক চরম স্মারক হিসেবে দেখা দেয়—যেন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঠিক আগে রিচার্ড এম নিক্সন ওয়াটারগেট কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর নির্বাচনী ভাষণ দিচ্ছেন।

ট্রাম্পবাদ হয়তো ঝিমিয়ে পড়ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে এখনো দুই বছর রয়েছে এবং যত দিন সম্ভব নিজের প্রভাব বজায় রাখতে তিনি সবটুকু চেষ্টা করবেন। তাঁর সহযোগীরাও তাঁকে এখনই বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে নিষেধ করেছেন। রক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতি প্রচারকারী সংস্থা ক্লাব ফর গ্রোথের সভাপতি ডেভিড ম্যাকইনটোশ বলেন, ট্রাম্পের সমালোচকেরা আগেও তাঁর রাজনৈতিক বিদায়ের কথা বলেছেন এবং প্রতিবারই ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। ডেভিড আরও বলেন, ‘সমাধান হলো রিপাবলিকানদের আবার আমাদের নীতিমালায় ফিরে যাওয়া। ২০২৮ সালে এভাবেই আমরা জয়ী হতে পারব।’

অবশ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বড় ঢেউ থেকে বড় কোনো শিক্ষা নেওয়ার বা আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে এক মৌলিক পরিবর্তনের রূপান্তর ঘটেছে বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক। হয়তো তা-ই ঘটেছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বহুবার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মঙ্গলবারের ফলাফল ভোটারদের মধ্যে এক বিস্তৃত আদর্শগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়।

১৯৭৪ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর ডেমোক্রেটিক জোয়ার দেখে মনে হয়েছিল রিপাবলিকানরা দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। কিন্তু এর মাত্র ছয় বছর পর রোনাল্ড রিগ্যান দলকে আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনেন। একইভাবে ১৯৯৪ এবং ২০১০ সালে রিপাবলিকানদের বিশাল জয় ক্লিনটন ও ওবামা প্রেসিডেন্সির সমাপ্তির বার্তা দিয়েছিল বলে মনে করা হলেও, দুই বছর পরই তাঁরা দুজনই অনায়াসে পুনর্নির্বাচিত হন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের আমেরিকান রাজনীতি ও পাবলিক পলিসির অধ্যাপক লিন ভাভরেক মনে করেন, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি ছিল জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি। তাই এর থেকে দেশের রাজনৈতিক চরিত্রে স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে বলা যায় না। লিন বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে মাগা জোট ভেঙে পড়ছে। তবে এর মানে কি ট্রাম্পের উজ্জ্বলতা কিছুটা ম্লান হয়েছে? হ্যাঁ। মানুষ কি তাঁর প্রতি আগের চেয়ে কম অনুরাগী? আমি মনে করি, এর উত্তরও ‘হ্যাঁ’।’

যা–ই হোক না কেন, রিপাবলিকান পার্টি এখন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত এক দল, যাকে ট্রাম্প নিজের আদলে গড়ে তুলেছেন, অনুগতদের ক্ষমতা দিয়েছেন আর স্বাধীনচেতাদের ছেঁটে ফেলেছেন। ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা এম গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট এর জবাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তা আমরা জানি না। তবে এ পর্যন্ত আমরা কেবল দেখেছি, তাঁর দলের সদস্যরা তাঁর কাছে নতি স্বীকারই করে এসেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো গ্রোগান মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল যা–ই হোক না কেন, প্রেসিডেন্ট এমন কিছু ইস্যুকে সামনে এনেছেন, যা আগে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি—যেমন আরও ভালো বাণিজ্যচুক্তি এবং ন্যাটো সহযোগীদের সামরিক ব্যয় বাড়ানো। তাঁর মতে, দল আর আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে না। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে কভিংটন অ্যান্ড বার্লিংয়ে কর্মরত গ্রোগান বলেন, ‘ফলাফল যা–ই হোক না কেন, আমরা এখনো ট্রাম্পের দলেই আছি। যাঁরা ভাবছেন ট্রাম্পবাদ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যাত হবে, তাঁরা ভুল ভাবছেন। দলের ভেতরে কিছু সুস্থ বিতর্ক হবে।’

একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরাও তাঁদের এই জয়কে কীভাবে দেখবেন তা নিয়ে তর্কে জড়াবেন। চলতি বছরে তাঁদের প্রধান পরিচয় ছিল শুধুই ট্রাম্পের বিরোধিতা করা, যা জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। তবে প্রগতিশীলদের মতে, বামপন্থীদের উদ্যমই এই সফলতার চালিকা শক্তি ছিল; অন্যদিকে মধ্যপন্থীদের মতে, টেক্সাস ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানদের কাছে টানাটা মূল নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে।

সাবেক ডেমোক্র্যাট শিকাগোর মেয়র এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নামার ভাবনায় থাকা রাম ইমানুয়েল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মাগার বাইরে থাকা রিপাবলিকানরা দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই নির্বাচনকে সাময়িক লেনদেন হিসেবে দেখব নাকি রূপান্তর হিসেবে? ২০২৭ সালে আমরা কী পদক্ষেপ নিই, সেটাই তা নির্ধারণ করবে।’

১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক ওয়াটারগেট-উত্তর ডেমোক্রেটিক জোয়ারে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মিশিগানের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা জেমস ব্ল্যানচার্ড জানান, এই বছরের নির্বাচন তাঁকে সেই ঐতিহাসিক বছরের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয়, মার্কিন রাজনীতি আবার ট্রাম্প-পূর্ব যুগে ফিরে যাবে।