যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার গ্রাফ এখন তলানিতে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম বিরোধ। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিনটি বিষয় আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে নাকি তা ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কংগ্রেসের এই দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি করে আসন বৃদ্ধি করতে হবে। যদিও সামগ্রিক নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ওপর, তবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছালেও প্রচারের মূল আকর্ষণ হয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের পরিচালিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। তা সত্ত্বেও তিনি ভোটারদের এমনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ব্যালটের কাগজে তাঁর নিজের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ট্রাম্পের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা। তবে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। এই তৎপরতায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।

জীবনযাত্রার ব্যয়

নির্বাচনী প্রচারপর্বে ভোটাররা জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অর্ধেকই জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ই তাঁদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ওই একই জরিপে পরিবারের প্রধান ব্যয়ের খাত হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, খাদ্য ও বাসস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন ভোটাররা।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমার্ধে রিপাবলিকানদের অন্যতম সাফল্য হিসেবে ধরা হয় করছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি করাকে। তবে এর বিপরীতে নিম্ন আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় গত বছর সরকার এক চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৮ ডলার। এক বছর আগের তুলনায় এই দাম ১ দশমিক ২০ ডলার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মুদিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বাড়ির দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।

অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ের তুলনায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে আটক অভিবাসীর সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরে এই প্রথমবার সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক অভিবাসীদের কাউকে ছেড়ে দেয়নি। তবে মেইন, মিনেসোটা ও টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিবাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছর অভিবাসন খাতে অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। রিপাবলিকানরা এককভাবে সাত হাজার কোটি ডলারের একটি বিল পাস করেছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত বাহিনীর অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত উন্মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটনের বাড়িতে অভিযান চালান কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ইলহানের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “তদন্তের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা।”