মাত্র সাত দিনের জন্য আইসিসি টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের মুকুট ধরে রাখতে পারলেন না মার্কো ইয়ানসেন। গত সপ্তাহেই মিচেল স্টার্ককে সরিয়ে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডার। তবে সেই রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী হলো না। কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্টে মোট ৯টি উইকেট শিকার করে আবারও এক নম্বর স্থানটি পুনরুদ্ধার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। দল হিসেবে সিরিজ হারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল থেকেছেন স্টার্ক, ক্যারিয়ারসেরা রেটিং পয়েন্ট অর্জন করে ফিরে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ছেলেদের সর্বশেষ র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। নতুন এই তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে ৮৮১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক। আগের সপ্তাহে তাঁর রেটিং পয়েন্ট ছিল ৮৬১। অন্যদিকে, ৮৭৬ থেকে এক পয়েন্ট কমে ৮৭৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন ইয়ানসেন। বর্তমানে দুই পেসারের রেটিংয়ের ব্যবধান মাত্র ছয় পয়েন্ট।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব স্টার্কের। মোট ১৫টি উইকেট নিয়ে দুই দলের সব বোলারদের মধ্যে সেরা ছিলেন তিনি। বিশেষ করে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অভিজ্ঞ এই পেসারের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। প্রথম ইনিংসে ৭২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রানে আরও তিন উইকেট শিকার করেন তিনি।
তবে স্টার্কের এই দাপুটে বোলিংয়ের পরেও শেষ টেস্টে জয় পায়নি অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের বড় লিড পাওয়া সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। শেষ পর্যন্ত কেপটাউনে ১৭৬ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে খুইয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ব্যর্থতার মাঝেও নয় উইকেটের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স স্টার্ককে বিশ্বের সেরা টেস্ট বোলারের স্বীকৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে।
অথচ এক সপ্তাহ আগেও চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গেবেরহায় দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্টার্ককে পেছনে ফেলেছিলেন ইয়ানসেন। সেই ম্যাচে ছয় উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডার। ফলে প্রথমবারের মতো টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠেন তিনি। একই সঙ্গে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও এক নম্বর জায়গা দখল করেন ইয়ানসেন।
কিন্তু কেপটাউনে শেষ টেস্টে ইয়ানসেন মাত্র তিনটি উইকেট নিতে সক্ষম হন, যেখানে বিপরীতে স্টার্ক নিয়েছেন নয়টি। দুই পেসারের পারফরম্যান্সের এই বিশাল ব্যবধানই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান বদলে দিয়েছে।
বোলিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলেও অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইয়ানসেন। কেপটাউন টেস্টে ৫২ রানের একটি ইনিংস খেলে এই বিভাগে তাঁর রেটিং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যারিয়ারসেরা ৪৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবীন্দ্র জাদেজার চেয়ে ৪১ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ক্রিকেটার।
টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা স্টার্কের জন্য নতুন কিছু নয়। গত আগস্ট মাসে প্রথমবারের মতো এক নম্বরে উঠেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহর দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছিলেন এই পেসার।
সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিলেন স্টার্ক। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৯ রান দিয়ে চার উইকেট শিকার করেন তিনি। তাঁর এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই রকম দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে হারানো শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করলেন তিনি।
সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে ৮৬১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি। ৮৫৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন এবং ৮৫৩ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহ।
তবে শীর্ষ দশের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। কেপটাউন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৪ রানে চার উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬ রানে ছয় উইকেট শিকার করেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান এই প্রোটিয়া অফ স্পিনার।
এর পুরস্কার হিসেবে এক লাফে নয় ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছেন হারমার। তাঁর বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৮১৭, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো স্পিনারের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন কেবল দেশটির কিংবদন্তি স্পিনার হিউ টেইফিল্ড, যিনি ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮৯৫ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন।
শুধু বোলিংয়েই নয়, অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে হারমারের। তিন ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছেন তিনি। এই তালিকায় ইয়ানসেনের পর দ্বিতীয় ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা, তৃতীয় দক্ষিণ আফ্রিকার উইয়ান মুল্ডার এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে টেস্ট অলরাউন্ডারদের সেরা পাঁচে এখন দক্ষিণ আফ্রিকারই তিন ক্রিকেটার রয়েছেন।
এদিকে সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে চার উইকেট নেওয়া নাঈম হাসান চার ধাপ এগিয়ে ৪৭তম স্থানে উঠেছেন। তিন ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিক্যান ছয় ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৩০তম স্থানে।
ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের সাদমান ইসলামের। চার ধাপ এগিয়ে ৬৩তম স্থানে উঠেছেন এই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার উইয়ান মুল্ডার সাত ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ১৭তম এবং রায়ান রিকেলটন ২৫ ধাপ এগিয়ে ২৩তম স্থানে উঠেছেন।