ব্যাট হাতে রান সংগ্রহ এবং বল হাতে উইকেট শিকার—দুই বিভাগেই অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন মার্কো ইয়ানসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রতিফলন ঘটেছে আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিং হালনাগাদে।

আইসিসির নতুন র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, টেস্ট বোলিং এবং অলরাউন্ডার—উভয় বিভাগেই এখন এক নম্বরে অবস্থান করছেন ইয়ানসেন। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষস্থানটি পুনরায় দখল করেছেন ভারতের উদীয়মান তারকা অভিষেক শর্মা। তিন সংস্করণের মোট নয়টি বিভাগের মধ্যে কেবল এই তিনটি বিভাগে শীর্ষস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুটি টেস্ট ম্যাচে বল হাতে ১০টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন ইয়ানসেন। বিশেষ করে গেবেখায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ৮৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর বল হাতে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনেই মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস।

এই অভাবনীয় পারফরম্যান্সের ফলে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে পাঁচ ধাপ এগিয়ে এসেছেন ইয়ানসেন। বর্তমানে ৮৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন। এর ফলে এক ধাপ করে নিচে নেমে গেছেন মিচেল স্টার্ক, ম্যাট হেনরি, ওলি রবিনসন এবং জসপ্রিত বুমরা। তবে ইয়ানসেনের এই শীর্ষস্থান কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া কেপটাউন টেস্টে ইতিমধ্যেই ৬ উইকেট নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। ম্যাচের বাকি অংশে স্টার্কের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।

অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে আগে থেকেই দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ইয়ানসেন। এবার এক ধাপ এগিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজাকে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন জাদেজা। ইয়ানসেনের এই উত্থান জাদেজার সেই দীর্ঘ রাজত্বের অবসান ঘটিয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে অভিষেক শর্মার এক নম্বরে ফেরার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টিতে তিনি যথাক্রমে ২৯ ও ২৭ রান করেছিলেন। তবে তৃতীয় ম্যাচে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে হাজির হন এই ভারতীয় ওপেনার। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

গত জুলাই মাসে অভিষেককে সরিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের শীর্ষে উঠেছিলেন তাঁর সতীর্থ ঈশান কিষান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যান কিষান। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আবারও শীর্ষস্থানটি নিজের করে নিয়েছেন অভিষেক শর্মা।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের প্রভাবে আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে। গেবেখায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৭৯ রান করে ম্যাচসেরা হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা চার ধাপ এগিয়ে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। বর্তমানে তাঁর ওপরে অবস্থান করছেন কেবল ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক।

হ্যারি ব্রুক নিজেও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন, তবে তা ওয়ানডে ফরম্যাটে। পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ২০২ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে ছয় ধাপ এগিয়ে আট নম্বরে উঠে এসেছেন এই ইংরেজ ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের শুবমান গিল। বোলারদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান এবং অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন তাঁরই স্বদেশি আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, যার অবস্থান ১৮তম। বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলামও ১৮ নম্বরে আছেন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় মেহেদী হাসান মিরাজ তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, র্যাঙ্কিংয়ে তিনি ২৪তম। বোলারদের মধ্যে মিরাজ ১১তম এবং অলরাউন্ডারদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে আছেন।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার ওপরে তানজিদ হাসান (২৩তম)। বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ অষ্টম স্থানে এবং অলরাউন্ডারদের তালিকায় বাংলাদেশের সেরা মেহেদী হাসান, যার অবস্থান ৩৮তম।