যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বুধবার এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধই ছিল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হেরে যাওয়ার প্রধান কারণ।

উল্লেখ্য যে, এক সময় ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে কাজ করেছিলেন জেডি ভ্যান্স। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তিনি এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল অবলম্বন করছেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন, তখন থেকেই এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন ভ্যান্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স লিখেছেন, “আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।”

নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে ভ্যান্স বলেন, “কেউ যদি মনে করেন এই যুদ্ধের জন্য নির্বাচনে হারা বা আগামী ছয় বছর সিনেটের ক্ষমতা হারানো ঠিক ছিল, তবে তাঁরা সে যুক্তি দিতেই পারেন। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হন আর না–ই হন, অন্তত সততার সঙ্গে এই সত্য স্বীকার করুন যে এ যুদ্ধের কারণে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”

ভ্যান্সের মতে, পরাজয়ের কারণটি এখন সবার কাছেই দৃশ্যমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ সবার জানা। এখন ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যেকোনো আলোচনা এ সত্য স্বীকার করার মাধ্যমেই শুরু হওয়া উচিত।”

ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েলের সহযোগিতায় ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন থেকেই ভ্যান্স এই যুদ্ধের কার্যকারিতা ও প্রভাব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই ভরাডুবির পর গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনে এই যুদ্ধের একটি বড় প্রভাব ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মনে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা নিয়ে ভাবি না। আমি সঠিক কাজটিই করেছি।”