পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই সাথে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর বলপ্রয়োগ, নির্যাতন এবং গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জি এম কাদের উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের বর্তমান বেতন দিয়ে দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ না করে বরং দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক নামের এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এই ঘটনায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “নিহতের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

বিবৃতিতে জি এম কাদের আরও বিস্তারিতভাবে জানান যে, কেবল শ্রমিকরাই নন, পোশাকশিল্পের মালিকরাও বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহসংকট, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের নানাবিধ সমস্যার কারণে মালিকপক্ষ তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন, শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের দাবির ন্যায্য সমাধানের দায়িত্ব এখন সরকারের।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জি এম কাদের। এই সংকট নিরসনে তিনি নগদ অর্থসহায়তা প্রদান অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি সরাসরি শ্রমিকদের মধ্যে সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছেন।