সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী এক ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৯০ হাজারের অধিক উদ্যোক্তাকে সাইবার হাইজিন বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকায় ‘সাইবাররেডি: সেলিব্রেটিং দ্য জার্নি অব সাইবার-সেফ এমএসএমই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন যে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো (এমএসএমই) বর্তমানে দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা সতর্ক করে বলেন, সাইবার হামলা, ফিশিং এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক লেনদেনের ফলে ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হ্রাস পেতে পারে, গ্রাহক আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করে একে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
গুগলের জনহিতৈষী সংস্থা গুগল ডট ওআরজির আর্থিক সহায়তায় এশিয়া ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রকল্পের স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে সাজেদা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, “বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও প্রতারণা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।”
এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ইকোনমি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যান্থিয়া মুলাকালা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাইবার হাইজিন মানুষের জীবিকা রক্ষা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বাংলাদেশে এই প্রকল্পটির বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রভাব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য যে, সাইবার হাইজিন হলো এমন এক চর্চা বা নিয়মাবলি, যার মাধ্যমে সাইবার হুমকি থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য-উপাত্ত নিরাপদ রাখা হয়।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মো. নোমানুজ্জামান এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ইজলাল হোসেন জানান, এই কর্মসূচিটি সফল করার পেছনে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি বড় কারণ ছিল। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও সুসম্পর্ক থাকায় প্রশিক্ষণের জ্ঞানগুলো খুব সহজে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে এমএসএমইর জন্য সাইবার-সহনশীল ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইনস্পিরা অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুনতাসির তাহমিদ চৌধুরী বলেন, “সাইবার অপরাধ এখন বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসার জন্যও বড় হুমকি।” তিনি এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও ফজলুল হক পর্যবেক্ষণ করে বলেন, অনেক উদ্যোক্তা পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন। প্রতারকদের প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খাইরুল আনাম এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল স্কিলসবিষয়ক পরিচালক নাদিয়া সুব্রামানিয়াম।