দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর পরিকল্পনা করছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এর পাশাপাশি নিজস্ব সার্বভৌম বাংলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয়ে কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা। উক্ত সভায় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ এবং লেখক রাহিতুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভায় আইসিটি সচিব বিস্তারিত জানান যে, বর্তমানে নাগরিকদের এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন এবং কর ফাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজগুলো আলাদা আলাদা জায়গায় রয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোকে এক জায়গায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে তথ্যের অপব্যবহার এবং জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে তথ্যের সমন্বয় এবং ডেটার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশ্বস্ত ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের সাইবার জগৎকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার কথা জানান সচিব। তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে বর্তমানে ১২০ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই কারিগরি বিশেষজ্ঞ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে দেশের ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে নিজস্ব এআই মডেল এবং শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিটি বিভাগের। পাশাপাশি ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সকল সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালু করার কথা জানান তিনি।
এদিকে আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান সিটিজের সভাপতি হাসান জাকির। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে অর্থ তছরুপের সুযোগ যেন না দেওয়া হয়।” সেই সঙ্গে অর্থের অপচয় হয় এমন কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ না করার দাবিও জানান তিনি।
সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, “প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উদ্ভাবনী প্রকল্পসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা পান তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি না ঘটে।
মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রতিবেদন তৈরির প্রয়োজনে সাংবাদিকদের দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা, এআই ও সাইবার সিকিউরিটির মতো নতুন কারিগরি বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।