ইউরোপের একাধিক দেশে সুপারমার্কেটের হিমায়ন বা রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থায় হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে সন্দেহভাজন সাইবার হামলাকে দায়ী করা হচ্ছে। আজ সোমবার বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবুর্গ এবং সুইডেনের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে রাতারাতি এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির খবর রেকর্ড করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং খুচরা বিক্রেতাদের মতে, পুরনো যান্ত্রিক অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই এই সাইবার আক্রমণগুলো চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ফ্রান্সেও কয়েক সপ্তাহ আগে অনুরূপ হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এবং কোটি কোটি টাকার খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যায়।
সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান জন বিলো রয়টার্সকে বলেন, ‘বিভিন্ন দোকানের কুলিং সিস্টেমকে প্রভাবিত করার একাধিক ঘটনা জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সুইডেনে বেশ কিছু উন্মুক্ত অপারেশনাল টেকনোলজি ডিভাইস চিহ্নিত করেছি। এগুলোতে সিস্টেম হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলাম।’ এদিকে সুইডিশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সফুড নিশ্চিত করেছে যে, গোথেনবার্গ এলাকায় তাদের ফ্রিজারগুলো হ্যাক করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেইন সুপারভ্যালু জানিয়েছে, তাদের মোট ২২৩টি দোকানের মধ্যে ১৩টিতে এই সাইবার ঘটনার প্রভাব পড়েছে।
বেলজিয়াম ও লুক্সেমবুর্গের আহোল্ড ডেলহাইজে স্পার শপসহ আরও ডজনখানেক দোকানের কুলিং ইউনিটগুলো হঠাৎ করে 'ডিফ্রস্ট মোডে' পরিবর্তিত হয়ে যায়। রেফ্রিজারেশন কোম্পানি সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী স্টিফান মোয়েলান্স এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি সাইবার হামলাকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, এস্তোনিয়ার প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিটম্যান কোল্ডটেকের প্রধান নির্বাহী জান মুতসো জানান, এস্তোনিয়াতেও রেফ্রিজারেশনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাটি একেবারেই নতুন এবং সোমবার সকালেই এটি ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বার্তায় দেখা গেছে, ফ্রান্সে যেভাবে সাইবার হামলার মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা বাড়ানো হয়েছিল, বর্তমান এই ঘটনাতেও ঠিক একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। বর্তমানে ইউরোপে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে 'হাইব্রিড যুদ্ধ' নিয়ে উদ্বেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে জানান, সাইবার হামলা নাগরিক জীবনের সরাসরি ক্ষতি করতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো ইউরোপীয় ব্লকজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।