বর্তমান সময়ে ব্যবহারকারীদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা, নিবন্ধ কিংবা কবিতা লিখে দেওয়ার পাশাপাশি নানা জটিল সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম এই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। এই বহুমুখী কার্যকারিতার কারণে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ নিয়মিতভাবে এটি ব্যবহার করছেন। তবে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে এবার বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান প্যারামিটারের একদল গবেষক চ্যাটজিপিটির সিস্টেমে একটি অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে বিশেষ লিংক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। তবে বিষয়টি নজরে আসার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কারিগরি ত্রুটিটি সংশোধন করেছে চ্যাটবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

প্যারামিটারের গবেষকদের দেওয়া বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, ই-মেইল, মেসেজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির একটি ক্ষতিকর লিংক ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল, যার মাধ্যমে চ্যাটবটটিতে ক্ষতিকর কোড সক্রিয় করা যেত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল যে, এই লিংকটি খোলার জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হতো না, কোনো নির্দিষ্ট ওয়ার্কস্পেসে যুক্ত হতে হতো না, এমনকি নতুন করে সাইন ইন করারও প্রয়োজন ছিল না। কেবল লিংকটি খোলার পর চ্যাটজিপিটির ‘প্রিভিউ’ বাটনে একবার ক্লিক করলেই ক্ষতিকর কোডটি সক্রিয় হয়ে যেত। এভাবে বিশেষভাবে তৈরি করা লিংকটি চালু হলে আক্রমণকারী ওই ব্যক্তির চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে তার সমস্ত কথোপকথনের তথ্য জেনে নিতে পারতেন।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ত্রুটির কারণে ক্ষতিকর কোডগুলো ব্যবহারকারীর পর্দায় প্রদর্শিত তথ্য সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি চ্যাটজিপিটির নিজস্ব সাইন ইন করা এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ব্যবহার করত। এর ফলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

ওপেনএআইয়ের নিজস্ব বাগ বাউন্টি কর্মসূচির আওতায় এই নিরাপত্তা ঝুঁকিটি শনাক্ত করেন প্যারামিটারের গবেষকেরা। ওপেনএআই জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে এই ত্রুটিটিকে ‘পি১’ শ্রেণির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ডে সর্বোচ্চ মাত্রার ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়।

সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ