দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের পাঁচটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ প্রদানের পথ প্রশস্ত করতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি নির্দিষ্ট ধারা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় রয়েছে সেগুলো হলো— সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লি., সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি., সিটি এডিবল অয়েল লি., সিটি ডাল মিলস লি. ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লি। সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটেড অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সুবিধা প্রদান করা হবে। এই বিশেষ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি কার্যকর হবে না বলে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তীর ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাতকারী এই শিল্পগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ সুবিধা নিতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ সিটি গ্রুপের জন্য উক্ত ধারাটি আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। এর ফলে নতুন করে ঋণ পেতে এখন আর কোনো আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে না সিটি গ্রুপকে।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সভায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যেন সিটি গ্রুপের ঋণকে এখনই খেলাপি ঋণ হিসেবে নথিভুক্ত না করা হয়। শিল্পগোষ্ঠীটি যাতে তাদের বর্তমান সংকট কাটিয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন এবং পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে মূলধন জোগান দেওয়ার লক্ষ্যে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট বা সিন্ডিকেট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গ্রুপটির কাছে বর্তমানে ৪৩টি ব্যাংকের মোট পাওনা ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা ইতিমধ্যে খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ওই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বেশ কিছু ঋণদাতা ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তবে আজকের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিশেষ শর্ত আরোপ করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "প্রস্তাবিত ঋণ-সুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। প্রস্তাবিত ঋণসুবিধার বিপরীতে যুক্তিসংগত জামানত নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপ তাদের অন্য কোনো ঋণ বা দায়ে আবদ্ধ নয়, এমন সম্পত্তি রেজিস্টার্ড মর্টগেজ হিসেবে প্রদান করবে। সিন্ডিকেটেড ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রয় করে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সিন্ডিকেটেড ঋণসুবিধা প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।"

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিন্ডিকেটেড ঋণের মাধ্যমে আমদানি করা কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণদাতা ব্যাংককে সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে ক্রয় করবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করবে।