ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আজ বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অ্যালার্জিজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীমনি আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এই কারণে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির দিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। সেই সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত তাঁর সময়ের আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন যে, এদিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামি পরীমনি অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই সময় প্রয়োজন। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে বলে আবেদনে জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৬ জুলাই, যখন নাসির উদ্দিন ঢাকার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয় যে, পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামী ক্লাবে প্রবেশ করে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। এছাড়া পরীমনি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন।
এরপর তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। বাদী নাসির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসির উদ্দিনকে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেন। বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করতে শুরু করেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। এছাড়া পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
অন্যদিকে, একই ঘটনা কেন্দ্র করে পরীমনি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।