পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রেনু আক্তার নামের সাজাপ্রাপ্ত এক বিএনপি নেত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই বিতর্ক শুরু হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তাফা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির মুন্সি, যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মহিবুল্লাহ এনমি, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আবু নাইম এবং বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত করে জানা গেছে, চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বাসিন্দা রেনু আক্তার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। চেক প্রতারণার মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাওয়ায় গত ৬ মে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরোয়ানার চিঠিতে তাঁর ঠিকানা হিসেবে উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড এলাকা এবং ছিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চেক প্রতারণার (ডিজঅনার) অভিযোগে রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করা হয়। চলতি বছরের ৪ মে ঢাকা মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ আদালত রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর ৬ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, যা গত ১৬ আগস্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে গলাচিপা থানায় পাঠানো হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে সাজা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তার। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা নেই। তাঁর মতে, বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে চট্টগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল এবং গত আগস্ট মাসে তিনি ওই আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ। সভায় তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে ওসি বলেন, "গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির বিস্তারিত পরিচয় না থাকায় এবং কোনো মহল থেকে তাঁর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর রেনু আক্তারকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।"

কমিটির সভাপতি ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, রেনু আক্তার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, "ওই ব্যক্তি দলীয় নেতাদের সঙ্গে সভায় অংশ নেন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত কি না, সেটা পুলিশ বিভাগের নজরে থাকার কথা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয়।"

মুঠোফোনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা বা পরোয়ানার বিষয়টি তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর তিনি রেনু আক্তারকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটি দলীয় কোনো ঘটনা না হওয়ায় দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কম।