জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুই দফায় মোট ছয় দিনের রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হলে আজ দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেই সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে, শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার চোরাচালানের অভিযোগে দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২১ অক্টোবর সেই রিমান্ড শেষ হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় পুলিশ তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেয়। দুই দফায় মোট ছয় দিন তিনি পুলিশি রিমান্ডে ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পশ্চিম থানার অন্তর্গত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে জুলাই গণ–আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় কিশোর হৃদয় আহমেদ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ওই মামলায় পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।