মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান আজ আদালতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অর্থ পাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রিমান্ড আবেদন বাতিল করার অনুরোধ জানান এবং তার জামিনের আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার রেজিস্টারসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এই মামলার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এর আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের গুলশান অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত শোরুম ও কার্যালয়ে চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিষ্ঠানটির বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণ ও হীরার মোট মূল্য ছিল ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে তারা ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরা ক্রয়, বিনিময় অথবা রূপান্তর করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ পণ্যের উৎস সম্পর্কে কোনো বৈধ নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।