বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা এই মামলায় আজ রোববার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে শুনানির সময় আসামিদের ভিন্ন ভিন্ন আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জুনাইদ আহ্মেদ পলক তাঁর বাঁ হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অন্য একটি মামলার আসামি এবং মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মামুন (২৫) নামের একজন গাড়িচালকের বাঁ চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইনের ওপর। তদন্ত কর্মকর্তা গত ৩০ সেপ্টেম্বর আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্মেদ পলককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন জানান।
তদন্ত কর্মকর্তার সেই আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, আনিসুল ও পলক বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি।
আজ রোববার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে হাজতখানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং কিছু সময় পর শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শুনানি চলাকালে আসামি পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন গ্রেপ্তারের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে যুক্তি দেন যে, এই মামলার এজাহারে পলকের নাম উল্লেখ নেই। এছাড়া ঘটনার সাত মাস পর মামলাটি করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়নি।
আদালতে শুনানির সময় দেখা যায়, পলক তাঁর বাঁ হাত মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর অন্য হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, “শেখ হাসিনার পঞ্চপাণ্ডবের একজন ছিলেন আনিসুল। পলক ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে সমর্থন জানিয়েছেন।”
অন্যদিকে, আনিসুল হকের আইনজীবীও গ্রেপ্তারের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তবে শুনানির সময় আনিসুল হককে অন্য মামলার আসামি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গল্প করতে দেখা যায়।
উভয় পক্ষের যুক্তি ও শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আদালত তাঁর আদেশ প্রদান করেন।
একই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পাপ্পু চৌধুরী হত্যা মামলায় মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদনটিও মঞ্জুর করেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত ভবনের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে পুনরায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।