বরগুনার পাথরঘাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অন্য দুই আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পাথরঘাটার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ছোট পাথরঘাটা এলাকার মৃত আব্দুস সোবাহান দফাদারের দুই ছেলে মো. এরশাদ ও মো. জাকির হোসেন এবং একই এলাকার ইউনুস মাঝির ছেলে আল আমিন ও মৃত সিকান্দার জোমাদ্দারের ছেলে কামাল হোসেনকে। তবে ইউনুস মাঝির ছেলে আব্দুল জলিল ও আবুসালেহ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ বছর আগে মামলার বাদী গোলাম রব্বানীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি গোলাম রব্বানী এবং তার মায়ের নামে ক্রয় করেন। সেই সময় থেকে গোলাম রব্বানী ও তার পরিবার ওই জমি ভোগ-দখল করে আসছিলেন। গোলাম রব্বানী আমতলী কলেজের প্রভাষক হওয়ায় তিনি দীর্ঘ সময় পাথরঘাটায় অবস্থান করতে পারেননি। তার এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক নম্বর আসামি মো. এরশাদ ও তার ভাই জাকির হোসেনসহ অন্যান্য আসামিরা ওই জমি দখল করে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির বিষয়ে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতেই আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মিজানুর রহমান মঞ্জু জানান, ২০২৪ সালে গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে মো. এরশাদ ও তার ভাই জাকির হোসেনসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় এক ও দুই নম্বর আসামিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে করা মামলায় এরশাদ ও তার ভাইসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ৩ ও ৬ নম্বর আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।