বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘Ensuring Quality Mental Health Services in Bangladesh’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির (বিসিপিএস) যৌথ প্রচেষ্টায় এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে মাসব্যাপী পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহানুর হোসেন।
সেমিনারটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়া উদ্দিন হায়দার। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র পাবলিক হেলথ অফিসার ড. হারুকা সাকামোতো এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ দীপ্তা রক্ষিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। সেমিনারে তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ম্যানেজার শেখ নাজমুল ইসলাম এবং প্রকল্পের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান মজুমদার। উক্ত মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র পাবলিক হেলথ অফিসার ড. হারুকা সাকামোতো।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, “বর্তমান বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা একটি বড় সংকট। এ সমস্যা প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের চর্চা করতে হবে।”
তিনি বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য একটি কাউন্সিল অ্যাক্ট তৈরির অপরিহার্যতা উল্লেখ করে বলেন, “কাদের সেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, এসব বিষয় নির্ধারণে কাউন্সিল গঠন করা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের এ আয়োজন অত্যন্ত যুগোপযোগী।” তিনি এই বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল অ্যাক্টের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অবহেলিত এবং এ ক্ষেত্রে যথাযথ সেবা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ সেবার অংশ হিসেবে সঠিক কাউন্সেলিং প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে রেগুলেটরি বডি না থাকলে সেই সেবার মান পৃথিবীর কোথাও স্বীকৃতি পাবে না। এ জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের একটি রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনা জরুরি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হয়ে কেউ রোগী দেখতে পারেন না।”
একই সাথে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়ে আরও বেশি গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহানুর হোসেন বলেন, “দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত ২৭ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যই শুধু মনোবৈজ্ঞানিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, এমন নয়। এর বাইরেও বহু মানুষ ডায়াবেটিস, ব্রেইন ইনজুরি ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হলে বিপুলসংখ্যক দক্ষ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।