দেশে হামের ভয়াবহ সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৮ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে ৭৮ জন। সব মিলিয়ে মাত্র এক দিনে মোট ১ হাজার ৪৬৬ জন রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪৭৮ জন। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন।

চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। দেশের ইতিহাসে হামে এত ব্যাপক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির আগে কখনও দেখা যায়নি।

বিভাগীয় তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৮১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এই সংখ্যা ৩১১ জন। এছাড়া সিলেট বিভাগে ১৫৭, বরিশালে ১৩৪, খুলনায় ১২২, ময়মনসিংহে ৮৮, রংপুরে ৬৩ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দিতে শুরু করে। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, সরকার তখন রোগ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। মার্চ মাসে হামের ব্যাপক প্রকোপ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মাসব্যাপী হামের টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রায় ৪০ লাখ শিশু এই টিকাদান কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে গেছে। এর ফলে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের এবারের এই ব্যাপক সংক্রমণের পেছনে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদানে ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফও একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের এই গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এক সময় হামের প্রকোপ একেবারে কমে এসেছিল। প্রায় এক দশক ধরে কোনো বছরে হামে ৪০০-এর বেশি সংক্রমণ দেখা যায়নি।